শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখছে রাবিপ্রবির ক্লাব সংস্কৃতি

Spread the love
FacebookWhatsAppTelegramThreadsCopy Link

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখছে রাবিপ্রবির ক্লাব সংস্কৃতি

রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত ক্লাব সংস্কৃতি, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যক্রমের বাইরেও সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে এসব ক্লাব হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের অন্যতম ভরসার জায়গা।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন ধরণের ক্লাব সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বছরজুড়ে এসব ক্লাব আয়োজন করে সেমিনার, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ক্লাবগুলোর এ ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উৎসাহে সহশিক্ষা কার্যক্রমে গতি বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে কয়েকটি নতুন ক্লাব।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরে ক্লাব কার্যক্রমে যুক্ত থাকার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজের সক্ষমতা ও নেতৃত্বদানের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে তারা অর্জন করছে বাস্তব অভিজ্ঞতা, যা ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটি কিভাবে ভূমিকা রাখছে জানতে চাইলে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক বাদশা সোলেমান বলেন, আমাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক, সৃজনশীল ও পেশাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান কমিটি বিস্তৃত, কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ও প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতনতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্লাবটি “From Campus to Career” শীর্ষক সেমিনার, প্রথমবারের মতো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর এবং ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার চর্চাকে উৎসাহিত করেছে।

রাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুল মারুফ বলেন, আমাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের কথা বলার দক্ষতা বাডানো, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন এবং জ্ঞানের পরিসরকে বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান এবং যুক্তি চর্চার জন্য একটি দৃঢ় ও বলিষ্ঠ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে ডিবেটিং সোসাইটি।শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত কাজের দক্ষতা এবং সহনশীলতার মনোভাব তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এই চেষ্টা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে দুটো ট্রফি জেতানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়াও, রাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি সবসময় সদস্যদের একাডেমিক সাফল্যের ক্ষেত্রে উদ্ধুদ্ধ করে আসছে। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার কারণে ক্লাবগুলোর কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। যার কারণে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপকতা বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যেই অনীহা বা অনাগ্রহ ছিল তা অনেকাংশে কমে এসেছে।

রাবিপ্রবি ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময় বলেন, ক্যারিয়ার ক্লাব শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতোমধ্যে সিভি রাইটিং, ক্যানভা ডিজাইনিং এবং লিংকডিনে প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি UNDP-এর সহযোগিতায় ফ্রি অনলাইন ইংরেজি কোর্স ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়েছে।এছাড়াও রিসার্চ ও পেপার রাইটিং, উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতা বিষয়ক দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

রাবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের আহবায়ক মোঃ ইলিয়াস বলেন, ফটোগ্রাফি ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফটোগ্রাফির কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ইভেন্ট কভার করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রফেশনাল স্কিল বৃদ্ধি করছে। এছাড়া, ক্লাবের টিমওয়ার্ক ও অর্গানাইজেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্যরা নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অর্জন করছে যা তাদের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত এক বছরে রাবিপ্রবিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করছে। যা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, টিমওয়ার্ক, এবং প্রফেশনাল স্কিল উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সহশিক্ষা কার্যক্রমে যে গতি এসেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাবিপ্রবি থেকে গড়ে উঠবে দক্ষ, সৃজনশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন এক নতুন প্রজন্ম, যারা দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *