প্রধানমন্ত্রী দেখলেন যবিপ্রবি উদ্ভাবিত ‘ন্যানো ইউরিয়া’, আশ্বাস দিলেন বানিজ্যিক উৎপাদনের
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
কৃষিখাতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমিয়ে টেকসই প্রযুক্তির প্রসারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইজ্ঞিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘ন্যানো ইউরিয়া’ সাড়া ফেলেছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে তিন দিনব্যাপী এই মেলার শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রদক্ষিণ পর্বে প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের অফিসিয়াল ভিডিওচিত্রের শুরুতেই স্থান পায় ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি। মেলায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের পক্ষে অধ্যাপক ড. জাভেদ ন্যানো ইউরিয়ার কার্যপ্রনালী ও উপকারিতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদকের সাথে ফোনালাপে নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান বলেন, “২০১৯ সালে আমাদের এই উদ্ভাবনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। দেশে সারের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় ন্যানো ফার্টিলাইজারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নীতিমালার প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একে ‘অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ’ ও ‘নিজস্ব দেশীয় পণ্য’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং ল্যাবরেটরির উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দিয়েছেন।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ইউরিয়ার আমদানি নির্ভরতা ও চড়া মূল্যের বিপরীতে মাত্র ২০০ টাকা মূল্যের এই ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন কৃষি খাতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণে জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের চাওয়ার বেশি কিছু নেই। আমরা যেসব উদ্ভাবন করি সেগুলোকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেভেলে নেওয়ার জন্য এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। ল্যাবে উদ্ভাবিত পণ্য যেন সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা সরকারের জোরালো ভূমিকা আশা করছি।”
