
যবিপ্রবি উপাচার্যকে নিয়ে কর্মচারীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার
যবিপ্রবি প্রতিবেদক, যশোর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সদ্য বিদায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মচারী সৌরভ ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষে কর্মরত রয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সৌরভ ভট্টাচার্য তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে উপাচার্যের একটি ছবি পোস্ট করে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন ব্যবহার করেছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী হয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের প্রতি এমন ভাষা প্রয়োগ করায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয়: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সৌরভ ভট্টাচার্য মণিরামপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের নিকটাত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি ইতিপূর্বেও অনেকের সাথে অশোভন আচরণ করেছেন। একজন কর্মচারী হয়ে উপাচার্যের মতো সম্মানীয় পদের ব্যক্তিকে গালিগালাজ করাকে চরম ধৃষ্টতা হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্য কেবল একটি পদ নয়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের বা সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। তারা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি কর্মচারী (শৃ্ঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি অবমাননাকর আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উপাচার্যের সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।





