তরুণদের নেতৃত্বে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়USTC-তে দিনব্যাপী কর্মশালা
চট্টগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনে আবারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের সাক্ষী থাকলো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (USTC)। গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে USTC Pharma Club-এর উদ্যোগে এবং শিশু উল্লাস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী একটি কর্মশালা। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো—Environmental Management, Green Education, Entrepreneurship এবং Leadership যা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন USTC Pharmacy Department-এর সম্মানিত ডিন ও চেয়ারম্যান, যারা শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান সরকার মেহেদী রেজা, যিনি তার বক্তব্যে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ওপর জোর দেন।
কর্মশালার প্রথম সেশনে Environmental Management বিষয়ে আলোচনা করেন নার্গিস আক্তার। তিনি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে করণীয় বিষয়গুলো সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।
পরবর্তী সেশনে Green Education নিয়ে আলোচনা করেন মোঃ আবির আল হাসনাঈন। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবেশ সচেতনতা অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং কীভাবে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তার উপস্থাপনা ছিলো অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও তথ্যবহুল।
Entrepreneurship সেশনে মুয়াম্মার মুবারক অনিক তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তিনি স্বল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করার কৌশল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি করে।
শেষ সেশনে Leadership বিষয়ে আলোচনা করেন মাহমুদ ইয়ামিন। তিনি একজন কার্যকর নেতা হওয়ার গুণাবলি, দল পরিচালনার কৌশল এবং বাস্তব জীবনে নেতৃত্ব প্রদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের নেতৃত্বগুণ উন্নয়নের অনুপ্রেরণা পায়।
দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, বরং এটি ছিলো একটি প্র্যাকটিক্যাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর, গ্রুপ ডিসকাশন এবং ইন্টারেক্টিভ সেশনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগ পায়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এই কর্মশালাটি ছিলো একটি সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মনির্ভরশীলতার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজন করা হলে তা দেশের তরুণ সমাজকে একটি টেকসই ও উন্নত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
