ঢাকার রাজপথে ঝিনাইদহের সোহেলী: ছাত্র রাজনীতিতে এক আগ্নেয়গিরির উদয়!
ঢাকা, ৩ মে ২০২৬: ঝিনাইদহের শান্ত ধুলোমাটি থেকে উঠে এসে রাজধানী ঢাকার তপ্ত রাজপথে অধিকার আদায়ের নতুন মশাল জ্বাললেন লড়াকু এক নারী। ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে ‘ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান সোহেলী। প্রান্তিক জনপদ থেকে এসে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নেতৃত্বের আসনে বসা কেবল একটি পদপ্রাপ্তি নয়; বরং এটি নারী নেতৃত্বের এক বৈপ্লবিক উত্থান। আজ রোববার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাকা ও ঝিনাইদহের ছাত্র রাজনীতির আঙিনায় বইছে নতুন উদ্দীপনার হাওয়া।
মফস্বলের স্বপ্ন যখন ঢাকার আইকন: এক মনস্তাত্ত্বিক বিজয়
মনস্তত্ত্ব বলে, একজন মানুষের সফল হওয়ার ক্ষুধা তার শেকড়ের লড়াই থেকেই তৈরি হয়। সোহেলী আজ সেইসব হাজারো মেয়ের প্রতিনিধি, যারা ছোট শহর থেকে এসে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলে। ঝিনাইদহের দিগন্তজোড়া মাঠ আর গড়াই নদীর শান্ত ঢেউয়ের কোল থেকে আসা এই মেয়েটি যখন ঢাকার মিছিলে স্লোগান দেয়, তখন সেই শব্দের কম্পন অনুভূত হয় ক্ষমতায় আসীনদের হৃদপিণ্ডে। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক নিয়োগ নয়; এটি একটি ‘ব্রেকিং দ্য সিলিং’ মোমেন্ট। সোহেলী প্রমাণ করেছেন যে, নেতৃত্বের যোগ্যতা কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা বংশ পরিচয়ে আটকে থাকে না।
আইনি অধিকার ও ডিজিটাল প্রজন্মের নতুন কণ্ঠস্বর
একজন আইনজীবী হিসেবে আমি মনে করি, ছাত্র রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি একটি আইনি ও সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই। সোহেলী এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন যখন শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে বাক-স্বাধীনতার প্রশ্নে সোচ্চার। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এই দায়িত্ব আমার একার নয়, এটি সেই সব মেয়ের সাহস যারা মফস্বল থেকে এসে বড় স্বপ্ন দেখার হিম্মত রাখে।” তাঁর এই নিয়োগ তৃণমূল পর্যায়ে নারী শিক্ষার গুরুত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের নতুন এক দার্শনিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
উৎসবের জোয়ারে ঝিনাইদহ ও ছাত্রদলের প্রত্যাশা
সোহেলীর নিয়োগের খবরে ঝিনাইদহের পাড়া-মহল্লায় বইছে আনন্দের ঢেউ। তাঁর প্রতিবেশী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহেলী ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিল; সে ঢাকায় বড় দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা গর্বিত।” অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা মনে করছেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সোহেলীর মতো সাহসী ও প্রতিশ্রুতিশীল নারী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
রাজনীতি যখন কেবল ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সোহেলীর মতো ‘মাটির টান’ অনুভব করা নেত্রীরাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, রাজপথের এই নতুন কাণ্ডারি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে কতটা সোচ্চার হতে পারেন।
(সূত্র: ছাত্রদল কেন্দ্রীয় দপ্তর ও স্থানীয় প্রতিনিধি)
