ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ম্যানেজমেন্ট ক্যারিয়ার ফর আপকামিং চ্যালেঞ্জেস ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশন’ শীর্ষক সেমিনার। সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের ৩১৫ নং কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভাগটি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুস শহিদ মিয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ম্যানেজমেন্ট মূলত একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। অন্যদিকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শব্দটি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা আমলাতান্ত্রিক বা কঠোর মনে হতে পারে, কারণ এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিষয়গুলো জড়িত। তবে সমসাময়িক বিশ্বে এই ধারণা অনেক পরিবর্তিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটিকে ‘নিউ পাবলিক ম্যানেজমেন্ট’-এর আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমাদের লিডিং করার আগে কিভাবে ভালো ইফেক্টিভ লিডার হওয়া যায় সেই পথ জানা থাকতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হলে আগে লিডার হতে হবে। লিডারশীপ গুণাবলি আনতে শর্টকার্ট পথ জানতে হবে। লিডার কখনো বেশি সময় কাজ করে না। ইফেক্টিভ লিডারশীপ কম সময়ে বেশি কাজ করে।ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, ম্যানেজারশিপ হলো নেতৃত্বের একদম প্রাথমিক বা ভিত্তিগত যোগ্যতা।ম্যানেজারশিপ হলো মানুষের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়া, আর লিডারশিপ হলো মানুষকে সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সাধারণ ধাঁচের নেতৃত্ব কিন্তু যথেষ্ট নয়। আপনারা যদি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সফলভাবে মোকাবেলা বা পরিচালনা করতে চান, তবে ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আপনাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা ও সক্ষমতা থাকতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জগুলো সামাল দিতে হলে যাকে বলা যায় ‘লিডার প্লাস প্লাস’ (Leader ++)।তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এর এই সময়ে দক্ষ নেতৃত্ব ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনায় পারদর্শী হতে হবে। পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।দিনব্যাপী এই আয়োজনে ‘Challenges of the Fourth Industrial Revolution’ এবং ‘Strengthening the Bond between the Department and Alumni’ শীর্ষক দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিভাগের কৃতী ও অভাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে (বৃত্তি) বিতরণ করা হয়।
