রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও দলীয় পদ ছাড়েননি নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য

Spread the love

রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও দলীয় পদ ছাড়েননি নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি)  অন্যতম সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা এবং সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষরিত কিছু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একটি স্বায়ত্তশাসিত, পূর্ণকালীন ও নীতি-নির্ধারণী প্রশাসনিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তিনি সরাসরি দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতির পদে আসীন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়ানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন। ফলে তাঁরা সরকারি পদের প্রশাসনিক মর্যাদা ধারণ করেন। সরকারি কর্মকর্তা (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২৫(১) এ বলা আছে “কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তার সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবেন না।”

এছাড়াও , বিধি ২৫(২) এ বলা হয়েছে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় পদের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না।

তাছাড়া ,বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি অনুযায়ী, ভিসি (উপাচার্য), প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) এবং ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদগুলো হলো সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত প্রশাসনিক পদ।একজন সাধারণ শিক্ষক ক্লাসের বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারলেও, তিনি যখন ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘প্রো-ভিসি’ হিসেবে দায়িত্ব পান, তখন তাঁর প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা হয় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। দলীয় শিক্ষক সংগঠনের যেকোন পদে বহাল থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলে সরাসরি ‘Conflict of Interest’ বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

এছাড়াও , ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় দেশের তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে।

ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন, সহযোগী সংগঠন, অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলাদলি নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও , নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশাসনের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।

তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা তো কোনো দলীয় রাজনৈতিক দল না। আমরা এমনিতেই আমাদের সাদাদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি “।

তিনি আরও বলেন , এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক পদে থেকে এধরনের সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকাই ভালো”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *