কুরআন দিবস : ১৯৮৫ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জের রক্তাক্ত ইতিহাস

Spread the love

কুরআন দিবস : ১৯৮৫ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জের রক্তাক্ত ইতিহাস

১১ই মে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্থসহ কুরআন বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি,

পবিত্র কুরআনের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“আপনি ঘোষণা করে দিন, জগতের সমগ্র মানব ও জিন জাতি মিলেও যদি এ ধরনের একখানা কুরআন তৈরির চেষ্টা করে, তাহলেও তা পারবে না, যদিওবা তারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে।”
— আল-কুরআন

১৯৮৫ সালে ভারতে পবিত্র কুরআন বাজেয়াপ্ত করার একটি মামলা দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতসহ মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১০ মে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে ইসলামী ছাত্র-জনতার বিশাল মিছিল বের হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

পরদিন, ১৯৮৫ সালের ১১ মে, কুরআনের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এ অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে আটজন নিহত হন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে “কুরআন দিবস” পালন শুরু হয়।

ঘটনার সূত্রপাত

১৯৮৫ সালের ২৯ মার্চ ভারতে চাঁদমল চোপড়া (বা চেপারা নামে পরিচিত) নামের এক ব্যক্তি আদালতে পবিত্র কুরআন বাজেয়াপ্ত করার মামলা দায়ের করেন। মামলায় আল-কুরআন-এর ১৯১ নম্বর আয়াত এবং আল-কুরআন-এর একটি আয়াতের উল্লেখ করে দাবি করা হয় যে, কুরআন সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধি ও সংবিধানের কিছু ধারা উদ্ধৃত করে তারা কুরআনকে ভারতীয় সংবিধানবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে।

বিচারপতি পদ্মা খাস্তগীর মামলাটি গ্রহণ করে রাজ্য সরকারকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে এফিডেভিট দাখিলের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর গোটা ভারতে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রক্তাক্ত ঘটনা

কুরআন দিবসের মূল ঘটনা সংঘটিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হোসাইন আহমদের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভা থেকে ১১ মে ১৯৮৫ বিকেল ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে গণসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। সমাবেশ সফল করতে জেলাজুড়ে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। আগের দিন জুমার খুতবায়ও মানুষকে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কিন্তু সমাবেশের দিন তৎকালীন পুলিশ সুপার আওলাদ হোসেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন।

সেদিনের শহীদেরা

শহীদ আব্দুল মতিন — ১০ম শ্রেণীর ছাত্র

শহীদ রাশিদুল হক — ১০ম শ্রেণীর ছাত্র

শহীদ শীষ মোহাম্মদ — ৯ম শ্রেণীর ছাত্র

শহীদ সেলিম — ৮ম শ্রেণীর ছাত্র

শহীদ শাহাবুদ্দিন — ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র

শহীদ আলতাফুর রহমান — কৃষক

শহীদ মোক্তার হোসেন — রিকশাচালক

শহীদ নজরুল ইসলাম — রেলশ্রমিক

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ১১ মে “কুরআন দিবস” হিসেবে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *