পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে: সত্য, ন্যায় ও নিরপেক্ষতার আলোকে বাংলাদেশ

Spread the love

পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে: সত্য, ন্যায় ও নিরপেক্ষতার আলোকে বাংলাদেশ

“Facts do not cease to exist because they_ are ignored.” — Aldous Huxley

রাজনৈতিক মতপার্থক্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু যখন সেই মতপার্থক্য পক্ষপাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় রূপ নেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি নয়, পুরো রাষ্ট্র। প্রচলিত প্রবাদ আছে, “সত্য সূর্যের মতো—মেঘে ঢাকলেও তার আলো নিভে যায় না।” তাই ব্যক্তি বা দলের প্রতি অন্ধ সমর্থনের পরিবর্তে সত্য, যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দেশকে মূল্যায়ন করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইম মনে করেন, একটি সমাজের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর। অন্যদিকে ম্যাক্স ওয়েবার তাঁর Legal-Rational Authority ধারণায় দেখিয়েছেন, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে ওঠে তখনই, যখন আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয়। একইভাবে জন রলস তাঁর A Theory of Justice-এ ন্যায্যতা ও সমান সুযোগকে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের মৌলিক শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যেমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও সহজেই মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। “United we stand, divided we fall”—এই চিরন্তন সত্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই কোনো ঘটনার বিষয়ে মত গঠনের আগে তথ্য যাচাই এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। টম আর. টাইলার তাঁর Procedural Justice Theory-তে দেখিয়েছেন, মানুষ তখনই আইনকে সম্মান করে, যখন তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ ও ন্যায্য বলে বিশ্বাস করে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের অগ্রগতি নির্ভর করবে আমরা কতটা সত্যকে গ্রহণ করতে পারি এবং কতটা ন্যায়বিচারকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি তার ওপর। “Truth will ultimately prevail where there is pains to bring it to light.” — George Washington। তাই পক্ষপাত নয়, সত্য; বিদ্বেষ নয়, সহনশীলতা; বিভাজন নয়, ন্যায় ও নিরপেক্ষতাই হোক আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।

লেখক: জন্নাতুল নাঈম
বিভাগ: ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চাইলে এটা গ্ৰহন করতে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *