‘মুক্তমঞ্চ থেকে হলরুম, সামনে হয়তো ছোট্ট কক্ষেই আটকা পড়বে কুবির জুলাই’ – কুবি শিবির সভাপতি

Spread the love

‘মুক্তমঞ্চ থেকে হলরুম, সামনে হয়তো ছোট্ট কক্ষেই আটকা পড়বে কুবির জুলাই’ – কুবি শিবির সভাপতি

কুবি প্রতিনিধি,

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘মুক্তমঞ্চ থেকে হলরুম, সামনে হয়তো ছোট্ট কক্ষেই আটকা পড়বে কুবির জুলাই’ – বলে মন্তব্য করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেছেন।

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্র রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মা উপস্থিত ছিলেন।

আবির বলেন, “জুলাই, বিশেষ করে ৩৬ জুলাই, আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন আমাদের শেখায় অন্যায় যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাকে পরাজিত করা সম্ভব।”

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযুক্তদের সনদ বাতিল ও বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা দেখা যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং কারফিউ চলাকালে তৎকালীন প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়। দুই বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ১১ শিক্ষকের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টরের নামও এসেছে। তার দাবি, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের শহীদদের একজন ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা শহীদ পরিবারের পাশে যেভাবে দাঁড়ানোর কথা ছিল, আমরা তা করতে পারিনি।” তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সময় শহীদ পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে।

আবির বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায়, আন্দোলন যখন শেষ হয়ে যায়, তখন বড় বড় আকাঙ্ক্ষাগুলো কেবল নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আজ দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এসে আমরা কোথায় অনুষ্ঠান করছি? প্রথম বছর মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান হয়েছে, দ্বিতীয় বছরে এসে বদ্ধ ঘরে হচ্ছে, আর আগামীতে হয়তো ছোট কোনো কক্ষে গিয়ে তা সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে! এভাবে ধীরে ধীরে জুলাইয়ের স্মৃতি হারিয়ে যাবে।”

সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা জুলাইকে হারাতে চাই না। আমরা জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ও প্রতিটি কাজে ধারণ করতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি— জুলাইয়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী শিক্ষক ও অপরাধীদের অতি দ্রুত বিচারে আওতায় আনা হোক এবং ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করা হোক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *