বুটেক্সে সেমিস্টার ফল প্রকাশে বিলম্ব, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

Spread the love

বুটেক্সে সেমিস্টার ফল প্রকাশে বিলম্ব, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সুব্রত কুমার পাল, বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সকল ব্যাচ এবং বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এতে রি-অ্যাডমিশন, পরবর্তী সেমিস্টারের অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা সহ উচ্চশিক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালটির অনেক শিক্ষার্থী।

গত ১২ মে প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ৪৯ ও ৫১তম ব্যাচের ১১ জুন এবং ৪৮ ও ৫০তম ব্যাচের ১৪ জুন চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। দীর্ঘ এক মাস ব্যাপী চলমান এই পরীক্ষা বিভিন্ন ব্যাচ অনুযায়ী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে সমাপ্ত হয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হবার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ৫১তম ব্যাচের (লেভেল-১ টার্ম-২) সকল বিভাগের রেজাল্ট প্রকাশিত হলেও অন্যান্য ব্যাচের সব বিভাগের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইতোমধ্যে, ৫০তম ব্যাচের (লেভেল-২ টার্ম-২) ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল ফ্যাশন এন্ড ডিজাইন বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি এবং ৪৯তম ব্যাচের (লেভেল-৩ টার্ম-১) কেবল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ৪৮তম ব্যাচের (লেভেল-৪ টার্ম-১) কোন বিভাগের ফলাফল এখন অবধি প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়। এতে বিপাকে পড়েছেন রি-অ্যাডমিশন সম্ভাবনায় থাকা শিক্ষার্থীরা। গত সেমিস্টারের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি তাঁরা উত্তীর্ণ হতে না পারেন, তবে এই দুই মাস ক্লাসে উপস্থিতি তাঁদের সময় অপচয়ের কারণ হিসবে অভিযোগ করেন। এছাড়া ৪৮তম ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করছে।

উক্ত বিষয়টি পূর্বের ফলাফল প্রকাশের বেলায় প্রতিফলিত হয়েছিল। গতবছর ২৪ নভেম্বর শুরু হওয়া বিভিন্ন ব্যাচের সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা ভূমিকম্পের কারণে স্থগিতের পর ৯ ডিসেম্বর থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলামান থাকে। এ সময় ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ৪৯, ৫০ ও ৫১তম ব্যাচের সকল বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে পরীক্ষা শুরুর তিন মাস পেরিয়ে এ ৯ এপ্রিলের মধ্যে ৪৭ ও ৪৮তম ব্যাচের ফলাফল প্রকাশিত হয়।

ফল প্রকাশ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজরানা মেহনাজ দিবা বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের গত সেমিস্টারের ফলাফল সংযুক্ত করতে হয়। কিন্তু জুন মাসে শুরু হওয়া পরীক্ষার ফলাফল আমরা এখনো পাইনি। তাই আমার কাছে কেবল লেভেল-৩ টার্ম-২ এর ফলাফল রয়েছে। তাই আমার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় আবেদনে বিলম্ব ঘটছে।”
ইন্টার্নিশিপ শেষ করে আসা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার অনেক সহপাঠী আছে যাদের একাধিক বিষয়ে রিটেক আছে। কিন্তু তারা বর্তমানে ইন্টার্নিশিপের শেষ পর্যায়ে। এসময় ফলাফল প্রকাশের পর যদি তাদের রি-অ্যাডমিশন নিতে হয়, তবে তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগবে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত ফলাফল প্রকাশে কাজ করা।”

হতাশা প্রকাশ করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম বাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় জানান, “নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস হয়ে গেল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ফলাফল জানতে পারিনি। এর ফলে নতুন সেমিস্টারে কতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করব, সে ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি না। আগের সেমিস্টারের ফলাফল সম্পর্কে যদি একটা ধারণা পেতাম, তাহলে সেই অনুযায়ী নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা সাজাতে পারতাম এবং নতুন করে পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি হতো। এভাবে দীর্ঘদিন ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারত এবং পরবর্তী পড়াশোনার পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে করতে পারত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বিষয়টিতে আরও দক্ষ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

ফলাফল প্রকাশে ধীরগতি নিয়ে টেক্সটাইল মেশিনারী ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৫০তম ব্যাচের সাব্বির হোসেন জানান, “ওবিই কারিকুলামে সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি বলা হলেও দুঃখের ব্যাপার ফলাফল প্রকাশে প্রশাসনের এতো অনীহা দেখে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা চরম লজ্জিত এবং হতাশ। এই সমস্যার তীব্র শিকার রি-অ্যাডমিশন নেয়া শিক্ষার্থীরা। কারণ নতুন সেমিস্টারের দুইমাস ক্লাস করার পর জানতে পাররেন তাঁরা রি-এড হয়ে গিয়েছে যা অপূরণীয় সময়ের অপচয়।”
তিনি আরো বলেন, “সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি সকল বিভাগের সেমিস্টার ফাইনালের ফলাফল উন্মুক্তভাবে প্রকাশের বিষয়ে তিরস্কার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ হতে চললেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অটোমেশনে যেতে পারেনি । নামমাত্র ওয়েবসাইট খুললেও সেখানে হালনাগাদ করা হয়নি গত দেড় বছরে। স্বীকৃত একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন চরম দুর্দশা সত্যিই আমাদের জন্য অনেক হতাশাজনক।”

ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে ৫১তম ব্যাচের সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আজকের মধ্যে ৫০তম ব্যাচেরও সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে সব ব্যাচের ফলাফল দেওয়া হবে। প্রত্যেক বিভাগকে একটা টাইমলাইন দিয়েছি কিন্তু বিভাগগুলো ফলাফল দিতে দেরি করায় ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের রিটেক ক্লিয়ার হলে তা ফলাফলের সাথে সমন্বয় করতে হয় তাই সিনিয়র ব্যাচের ফলাফল প্রস্তুত হলেও জুনিয়র ব্যাচের ফলাফল প্রকাশের আগে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সময়মত ফলাফল জমা দিলেই যথাযথ সময়ে ফলাফল প্রকাশিত হবে।”

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ এবং ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট প্রোফাইলের আওতায় ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *