রাবিপ্রবির পরিবহন সেবা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
রাবিপ্রবি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) পরিবহন সেবা নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে রাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে। পর্যাপ্ত বাস থাকা স্বত্তেও ড্রাইভার নিয়োগ না দেয়ায়, নতুন বাসগুলো অচল অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায়। এই ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটছে।
পরিবহন ব্যবস্থার অসন্তোষ নিয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিক হাসান রাসেল বলেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। লাইব্রেরি, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট কোনোভাবে মেনে নেওয়া গেলেও বর্তমানে পরিবহন সংকট শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলছে। শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব ক্ষেত্রবিশেষে ৮–১০ কিলোমিটার। পাহাড়ি এই পথে বাসই শিক্ষার্থীদের প্রধান ভরসা। অথচ অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও থাকে না। নতুন তিনটি বাস এলেও ড্রাইভার সংকটে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলোজি বিভাগের শিক্ষার্থী জেমি জানান, প্রথমত রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা। উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ। এমনতাবস্হায় আসনসংখ্যার চাইতে তিনগুণ বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে আমাদের বাসগুলো যাতায়াত করে। অনেকেই দাঁড়িয়ে বা ঝুলে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে যায়। পাহাড়ের আঁকাবাকা পথে এগুলো কতটা যৌক্তিক প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রইলো।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেকজন শিক্ষার্থী মুনতাসিরুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ২ মাস ১১ দিন হলো নতুন বাস আসল। কিন্তু এখনও ড্রাইভার নিয়োগ হলো না। ড্রাইভার নিয়োগের জন্যও যদি রাস্তায় নামতে হয়! স্টাফ বাস যেটা দাঁড়িয়ে থাকে ওটাও কি দেওয়া যায় না দুপুরে? ভাড়া বাস একটা দিল তাও বলে রিজার্ভ বাজার পর্যন্ত। রিজার্ভ বাজার পর্যন্ত ২ টা বাস দুপুরে দেওয়ার কোনো সেন্সই হয় না। এটার একমাত্র সমাধান যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট বাসে বসতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিী কেউ নিজেদের গাড়িতে আরাম করে এসির বাতাস খেয়ে যেতে পারবে না!!
রাবিপ্রবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর আরমান ফেসবুকে লিখেন, রাবিপ্রবির বাস সার্ভিসের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর বড় ধরণের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানী না হওয়া পর্যন্ত কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গবে না!!!
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “আমরা রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি, আমরা তখন সেখান থেকে বাসগুলো বের করতে পারব এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করতে পারব এবং অনুগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি।”

