বেরোবিতে ‘হেরিটেজ কার্নিভাল’, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় জীবন্ত ইতিহাস-ঐতিহ্য

Spread the love

বেরোবিতে ‘হেরিটেজ কার্নিভাল’, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় জীবন্ত ইতিহাস-ঐতিহ্য

মুজতাহিদ মিনার, বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হেরিটেজ কার্নিভাল-২০২৬’। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় প্যাপিরাস, পিরামিড, মমিকরণ, কান্তজী মন্দির ও ষাট গম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতিকৃতি ফুটে ওঠে এ আয়োজনে। পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের সাজে নিজেদের উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় দিনব্যাপী এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়।

কার্নিভালে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে প্যাপিরাস, মিশরের নীলনদ, পিরামিড, মমিকরণ, প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট খনন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্তরবিন্যাস, মৃৎপাত্র, কান্তজী মন্দির ও ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিকৃতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নেফারতিতি, দেবী চৌধুরানী, তান্ত্রিক, আরবের শেখ ও ক্লিওপেট্রাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের সাজে নিজেদের উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের কারুশিল্প ও কৌশল কাজে লাগিয়ে যে স্থাপত্যগুলো তৈরি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্নতত্ত্বের মাধ্যমে অতীত ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যের প্রতিচ্ছবি শিক্ষার্থীদের কাজের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করানো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও এর প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আরা তানজিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা এত সুন্দরভাবে আমাদের অতীত ঐতিহ্য সবার সামনে তুলে ধরেছে, তা দেখে আমি অভিভূত। ইতিহাস অনেক ভালোলাগার বিষয়। এসব কাজ না করলে এর গুরুত্ব ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করা কঠিন। শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে কাজগুলো করেছে, এতে আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজনটির তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের বিষয়গুলো আমরা পড়াশোনা করি। পাশাপাশি সেগুলো যখন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই, তখন ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। আমাদের ঐতিহ্যগুলো জাতীয় সম্পদ। এগুলো সংরক্ষণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সচেতনভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পরিদর্শন ও জানার মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে। আমাদের জ্ঞান ও শিক্ষাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আমরা মনে করি, সেই প্রচেষ্টায় কিছুটা হলেও সফল হয়েছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান, রংপুর বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ড. আহমেদ আবদুল্লাহ, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আরা তানজিয়া, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ ও সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *