বুটেক্সের একাডেমিক কার্যক্রম সহজ করতে মৃদুলের ‘ইউনিগ্রিড’

Spread the love

বুটেক্সের একাডেমিক কার্যক্রম সহজ করতে মৃদুলের ‘ইউনিগ্রিড’

সুব্রত কুমার পাল, বুটেক্স প্রতিনিধি

ক্লাসে যাওয়ার আগে রুটিন বদলেছে কি না, তা জানতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খোঁজ নেওয়া। প্রয়োজনের সময় লেকচার স্লাইড খুঁজতে পুরোনো বার্তা ঘাঁটা। কখনো আবার তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে হয় শ্রেণি প্রতিনিধির (সিআর) সঙ্গে। বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের এসব নিত্যদিনের ভোগান্তি কমাতে ‘ইউনিগ্রিড’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

মাহমুদুল হাছান মৃদুল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর তৈরি অ্যাপটিতে ক্লাসের রুটিন, নোটিশ, পড়ার উপকরণসহ একাডেমিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায়।

এক অ্যাপে প্রয়োজনীয় সব তথ্য

ইউনিগ্রিডে ক্লাসের রুটিন ও গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের পাশাপাশি শিক্ষকদের দেওয়া পড়ার উপকরণ, পরীক্ষার কাউন্টডাউন এবং গ্রুপ চ্যাটের সুবিধা রয়েছে। সিআর বা শিক্ষক রুটিন পরিবর্তন করলে ব্যবহারকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন পান। কোন কোর্সে কতটি ক্লাস হয়েছে এবং কতটি ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন, তা-ও দেখার সুযোগ রয়েছে।

অ্যাপটির তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে রুটিন পরিবর্তন ও পড়ার উপকরণ আপলোডের দায়িত্ব নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে রাখা হয়েছে। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে সিআরের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রুপ চ্যাটে আপত্তিকর বার্তা থাকলে তা প্রশাসনকে জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

আইপিই বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শ্রেণি প্রতিনিধি মার্জিয়া বিনতে হাসান অ্যাপটির ব্যবহারিক সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সিআর হিসেবে ক্লাসের সংখ্যা হিসাব রাখা, নোটিশ দেওয়া ও রুটিন পরিবর্তনের খবর দ্রুত জানাতে হয়। এসব কাজ একসঙ্গে সহজে করার জন্য ইউনিগ্রিড ভালো একটি উদ্যোগ।”

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগ

অ্যাপটির একজন ব্যবহারকারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার তমাল বলেন, “প্রয়োজনীয় সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে বলে আমাদের সময় ও পরিশ্রম—দুটিই কম লাগছে। অ্যান্ড্রয়েডের পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণ থাকায় বিভিন্ন ডিভাইস থেকেও অ্যাপটি ব্যবহার করা যায়। সিআর বা প্রশাসকের অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও আস্থা রাখা যায়।”

একাই তৈরি করেছেন মৃদুল

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপটি তৈরির কাজ শুরু করেন মৃদুল। জুলাইয়ের মধ্যে এটি ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন। অ্যাপটির কারিগরি উন্নয়নের কাজ তিনি একাই করেছেন। পরে আইপিই বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মার্জিয়া ও মিজান অ্যাপটি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটির ত্রুটি সংশোধন ও উন্নয়ন করা হয়।

অ্যাপটি তৈরিতে ফ্লুটার ফ্রেমওয়ার্ক ও ডার্ট প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করেছেন মৃদুল। তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদ এবং নোটিফিকেশন পাঠানোর জন্য ব্যবহার করেছেন ফায়ারবেস ও সুপাবেস।

মৃদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যাপটির ব্যবহারকারী ৫৮০ জনের বেশি। তাঁদের বড় অংশ আইপিই ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বর্তমানে বিনা মূল্যের সেবা ব্যবহার করে অ্যাপটির তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ব্যবহারকারী ও ফাইলের সংখ্যা বাড়লে পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। আইফোনের জন্য অ্যাপ স্টোরে সংস্করণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়েব সংস্করণের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা যায়।

ভবিষ্যতে শিক্ষকদের সরাসরি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ক্লাসের তথ্য হালনাগাদের ব্যবস্থা করতে চান মৃদুল। পরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আপাতত বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক তথ্য আদান-প্রদান সহজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *