নীরব অনুভূতি ও জীবনের গল্প নিয়ে রুপমের কবিতা ‘শেষ বিকেলের চিঠি’
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ বিকেলের চিঠি,
— রুপম

কোনো একদিন বিকেলবেলা, মেঘলা আকাশতলে,
আমার ছায়া পড়বে না আর চেনা পথের কোলে।
বকুলতলায় ঝরবে ফুল, নদী বইবে ধীরে,
পুরোনো সেই দিনের স্মৃতি হারাবে অন্ধকারে।
হয়তো কোনো জানালাতে বৃষ্টি পড়ার ক্ষণে,
কোনো পুরোনো কথা জাগবে অচিন মানুষের মনে।
হয়তো কোনো নামের পাশে থামবে চোখের পাতা,
হয়তো আবার হারিয়ে যাবে না-বলা সব কথা।
জীবন যেন নদীর মতো—চলে আপন বেগে,
কত স্বপ্ন ভেসে যায় তার অজানা এক ঢেউয়ে।
তবু কেন মন খুঁজে ফেরে আপন কোনো ঠিকানা?
কেন নিজের মানুষ হয়েও নিজেকে লাগে অচেনা?
রাত ফুরোলে ভোরের পাখি ডাকবে আবার গেয়ে,
কুয়াশা সরে রোদ উঠবে সবুজ মাঠের বেয়ে।
পৃথিবী তার নিয়ম মেনে চলবে অনিবার,
তবু প্রতিটি জীবনেরই নিজস্ব গল্প আছে—
নীরব হলেও, গভীর হলেও, অমূল্য সেই অধিকার।

মানুষের মনের নীরব অভিমান, একাকিত্ব, স্মৃতি এবং জীবনের চলমান সময়কে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে কবিতা ‘শেষ বিকেলের চিঠি’। কবিতাটির রচয়িতা রুপম। প্রকৃতির পরিচিত দৃশ্যের সঙ্গে মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির সংযোগ ঘটিয়ে কবিতাটিতে জীবনের এক সংবেদনশীল ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার শুরুতে নদী, সূর্যাস্ত, শিশিরভেজা ঘাস, ধানক্ষেতের বাতাস ও নীড়ে ফেরা পাখির চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির এই শান্ত দৃশ্যের বিপরীতে কবি তুলে ধরেছেন মানুষের মনের অপ্রকাশিত কথা, জমে থাকা অভিমান এবং পরিচিত মানুষের ভিড়েও নিজেকে অচেনা মনে হওয়ার অনুভূতি।
‘শেষ বিকেলের চিঠি’ কবিতায় স্মৃতি ও সময়ের প্রবাহ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পুরোনো কোনো কথা, বৃষ্টিভেজা জানালা কিংবা পরিচিত কোনো নাম মানুষের মনে হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারে—এমন ভাবনা কবিতাটিকে আবেগময় করে তুলেছে।
কবিতার শেষাংশে জীবনের স্বতন্ত্র গল্প ও অনুভূতির মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা, প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব সুখ-দুঃখ ও না-বলা কথা। নীরবতার মধ্যেও মানুষের অনুভূতি যে মূল্যবান, কবিতাটি সেই উপলব্ধির দিকেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রকৃতি, স্মৃতি ও মানবিক অনুভূতির সমন্বয়ে ‘শেষ বিকেলের চিঠি’ পাঠককে নিজের জীবনের ফেলে আসা মুহূর্তগুলোর কথা ভাবতে আমন্ত্রণ জানায়।
