ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বুটেক্স হল প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্যোগ, স্বস্তিতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা
সুব্রত কুমার পাল, বুটেক্স প্রতিনিধি
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে প্রতিবছরই উদ্বেগ তৈরি হয়। জমে থাকা পানি, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশার বিস্তারের কারণে এ সময় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০ হাজারের অধিক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীরাও।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ছেলেদের তিনটি আবাসিক হলের মধ্যে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে ১ জন নারী শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
তবে গত বছরের তুলনায় এবারে হলগুলোর ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শহীদ আজিজ হলে ৩ জন এবং জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে ৮ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে আক্রান্তের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সীতারা বেগম হলে গত বছর ৬ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
হলভিত্তিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নজরুল ও ওসমানী হল এ পূর্বের তুলনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশ কম। একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে শহীদ আজিজ হলের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩ হলেও এ বছরে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হননি। এছাড়াও মেয়েদের ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে বিগত বছরে ৬ জন আক্রান্ত হলেও এবছরে এখন পর্যন্ত ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকার পেছনে হল প্রশাসনের নিয়মিত ফগিং ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি হলের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
হলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু আক্রমণের কারণ হিসেবে হলের পরিবেশ এবং হল প্রশাসনকে দায়ী করছেন না। তবে বাহিরে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অসচেতনতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫২তম ব্যাচ ও জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার ইসলাম জানান, “গত সপ্তাহে জ্বর আসার দুইদিন পর আমার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তবে বর্তমানে আমি সুস্থ আছি। আমাদের হলের পরিবেশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। হলে নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু আক্রমণের কারণ হিসেবে আমি হলের পরিবেশকে দায়ী করছি না। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাতায়াতের কারণে এ সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছি।”
পাশাপাশি চারটি আবাসিক হলের হল প্রভোস্ট সাথে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, হল প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ নিয়ে ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হলে নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে। একইসাথে আশে পাশের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ফলে পানি জমে থাকার সুযোগ নেই।”
তাছাড়া তিনি আবাসিক শিক্ষার্থীদের মশারী ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, হল প্রশাসন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উক্ত উদ্যোগসমূহের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন ও সাবধান হবার আহবান জানান। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে আবাসিক হলগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
