আগামী বছরের মধ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে চালু হবে ওবিই কারিকুলাম

Spread the love

আগামী বছরের মধ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে চালু হবে ওবিই কারিকুলাম

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে আগামী বছরের মধ্যে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে ওবিই কারিকুলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তবমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে ‘ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা: কলা অনুষদের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ কর্মশালায় কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম সময়ের প্রয়োজনে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে এসব পর্যায়ে সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে একই পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে পাঠদান পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বা ওবিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ওবিই কারিকুলাম চালু করা হবে। ওবিই কারিকুলামের মূল বিষয় হলো গতানুগতিক শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তে সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যসূচির প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবে। শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ জ্ঞানদানের লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাই ওবিই কারিকুলামের লক্ষ্য।’

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আপনারা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে নতুন জ্ঞান অর্জন করে তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন। আমি আশা করি, আপনাদের সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাবে।’

শিক্ষকদের অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ ইমদাদুল হুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার শান্ত-মারিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা।

এ সময় আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জাহিদুল ইসলামসহ কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এ কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে কলা অনুষদের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *