বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ রাবিপ্রবি
রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দিনের বিভিন্ন সময়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মাল্টিমিডিয়া নির্ভর ক্লাস, ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং অনলাইন গবেষণামূলক কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়াও রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধার স্বল্পতা ফলে গবেষণার কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য উপাদান। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত পাঠদান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সোলেমান বাদশা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। সেশনজট, শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট, প্রযুক্তি ও সম্পদের অপ্রতুলতার মতো বিদ্যমান সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে প্রেজেন্টেশন, ল্যাব ক্লাস ও বিভিন্ন বাস্তবমুখী শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি একাডেমিক কাজে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তীব্র গরমে স্বাভাবিক পাঠদান ও পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ইস্যুতে ফরেস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, আমাদের দাবি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার (যেমন: জেনারেটর বা সোলার সিস্টেম) সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা, তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলোজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো: হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, একজন সিনিয়র ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছিলাম, পূর্বে একবার পরীক্ষার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করতে বিলম্ব হয়েছিল এবং সে কারণে পরীক্ষার সময়ও পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এতদিন পরেও যদি একই সমস্যা থেকে যায়, তবে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে অসহ্য গরম লাগে, হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির জানান, ক্যাম্পাসে একটি সাব-স্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। বিকল্প কি করা যায় আমরা তা নিয়েও ভাবছি। আশা করি শিগগিরই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
