মনিরের মৃত্যুতে উত্তাল মাভাবিপ্রবি, ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

Spread the love

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, তার পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন শিক্ষার্থীরা।শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় মনিরের সহপাঠী ও রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশন (আরডিএ)-এর উদ্যোগে একাডেমিক ভবন-৩-এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—১. মেস মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান:বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।২. ২৪/৭ ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু:জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।৩. দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তি:২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিলম্বের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।৪. ‘খাজা মেস’-এ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা:মেসটিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল অথবা বিকল্প নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।৫. আশপাশের মেসগুলোর নিরাপত্তা যাচাই:বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেসগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও বসবাসের উপযোগিতা যাচাইয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মেস চিহ্নিত হলে সেখানে শিক্ষার্থীদের বসবাস বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।৬. খাবারের মানোন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকি:ক্যাম্পাসসংলগ্ন হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রভোস্টসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি একই দিন ‘খাজা মেস’ পরিদর্শনের কথাও জানানো হয়।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ‘খাজা মেসে’ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির গুরুতর আহত হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *