শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিকের তৎপরতায় অপহরণ থেকে যুবক উদ্ধার, আটক ২
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২৬
সিলেটের টুকের বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এক যুবককে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হওয়ায় পিছু নিয়ে তাকে উদ্ধার করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অটোরিকশার চালকসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনে থেকে ঘটনাটির সূত্রপাত। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
আশিক জানান, ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চিৎকার শুনতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও কিছুক্ষণ পর অটোরিকশার ভেতর থেকে এক যুবক শরীরের অর্ধেক বাইরে বের করে ‘ভাই, আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এতে তার সন্দেহ হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে আশিক মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন। অটোরিকশাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড হয়ে তেমুখীর দিকে চলে যায়। একপর্যায়ে সেটিকে চোখের আড়াল হয়ে যেতে দেখে তিনি ফিরে আসার কথা ভাবছিলেন। তখন পেছন থেকে আরেক মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত অটোরিকশাটিকে ধরার জন্য তাকে এগিয়ে যেতে বলেন।
এরপর তেমুখীর ঢাল পেরিয়ে টুকের বাজারের দিকে যাওয়ার পথে আবার অটোরিকশাটিকে দেখতে পান আশিক। তিনি থামার সংকেত দিলেও চালক গাড়ি না থামিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে মোটরসাইকেল দ্রুত চালিয়ে অটোরিকশাটির সামনে গিয়ে পথ আটকে দেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলও ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায়।
অটোরিকশা থামতেই ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের একজনকে ধরে ফেলা হয়। পরে অটোরিকশার চালকসহ অপর ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।
ঘটনাস্থলে শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামসুদ্দিনও উপস্থিত হন। আশিকের দাবি, তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছ থেকে ওই যুবকের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেলে করে অটোরিকশাটির পিছু নিয়েছিলেন।
আটকের পর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি এলাকায় বসে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। তারা আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় হলে নিজেদের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা জানান। তবে তাদের পরিচয় ও কেন তারা দায়িত্ব নিতে চাইছেন, তা জানতে চান আশিক। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া যুবকের সঙ্গে কথা বলে আশিক জানতে পারেন, তিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। ওই যুবকের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি ওয়ার্কশপে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তাকে বাইরে ডেকে আনেন। পরে চায়ের দোকানে যাওয়ার কথা বলে তাকে সিএনজিতে উঠতে বলা হয়। তিনি রাজি না হলে জোর করে তাকে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।
অটোরিকশায় যাওয়ার একপর্যায়ে যুবক বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন সুযোগ বুঝে তিনি শরীরের কিছু অংশ বাইরে বের করে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।
আশিক বলেন, অটোরিকশাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বাসস্ট্যান্ড ও মদিনা মার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকা পেরিয়ে টুকের বাজারের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারলে আরও দূরে নিয়ে যাওয়ার পর যুবককে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়তে পারত।
ঘটনার পর জালালাবাদ থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া যুবক ও অটোরিকশার চালককেও থানায় নেওয়া হয়।
জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানান, ঘটনায় দুইজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘আমি তখন শুধু চিন্তা করেছি, ছেলেটা আমাদের কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত কেউ হতে পারত। অপরিচিত মানুষ বিপদে পড়লেও আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আমি যদি তখন অটোরিকশাটির পিছু না নিতাম, তাহলে ছেলেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো কি না জানি না।’
রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিক। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় ও রাতের বেলায় যাতায়াতের সময় চালক এবং আশপাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

