বহিরাঙ্গনের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন সেই জীবন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

Spread the love

বহিরাঙ্গনের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন সেই জীবন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মুজতাহিদ মিনার, বেরোবি প্রতিনিধি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালকের দায়িত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন করে তাকে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ড. তানজিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন। যৌন হয়রানির অভিযোগের পর গত বছর তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে তাকে নতুন করে বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ পদে দায়িত্ব পেলে ড. তানজিউল ইসলাম জীবন সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় কল রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার পদোন্নতি প্রায় এক বছর ধরে আটকে রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক বলেন, বহিরাঙ্গন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর। সেখানে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমরা যতদূর জানি, এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর আগে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন এবং সেখান থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এখন তাকে আবার প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে আবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সেটি স্পষ্ট না করে তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, এখনো যেহেতু আমরা বিষয়টি অফিসিয়ালি প্রকাশ করিনি, আগে থেকে ধারণা করে নেওয়া ঠিক হবে না। তবে যিনি অভিজ্ঞ, তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *