নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন, দৌড়ে চার শিক্ষক

Spread the love

নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন, দৌড়ে চার শিক্ষক

জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষের পর বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর পদত্যাগসহ হামলার বিচার দাবি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।

এ পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রক্টরকে সরিয়ে নতুন কাউকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে পরবর্তী প্রক্টর হিসেবে কয়েকজন শিক্ষকের নাম আলোচনায় এসেছে।

প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে উপাচার্য দপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নঈম সিদ্দিকী, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি হাসান জুয়েল, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. কে এ এম রিফাত হাসান।

জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানের নাম আলোচনায় এসেছে। তিনি জকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচিত পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার নাম নাই। আমি নাই। আমার নামে এটা একটা ভুয়া তথ্য হয়তোবা কেউ ছড়াইছে। এটা একটা ভুয়া তথ্য।”
আনিসুর রহমান বলেন, “আমাকে নিয়ে একটা ভুয়া ইনফরমেশন দিয়েছে। এটা এর আগেও করেছে কারা কারা জানি। আমি মূল একাডেমিকশিয়ান। আমি একাডেমিক কাজেই থাকতে চাই।”

এছাড়া আলোচনায় আছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নঈম সিদ্দিকী। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও নিয়েছেন।

৪ আগস্টের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘যেই নঈম সিদ্দিক প্রক্টর নাসিরের সাথে শিক্ষার্থীদের সাথে হামলায় ইন্ধন দিছে, সে-ই নাকি আজকে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাঁধা দিতে গেছিল। কিন্তু এই নঈম’ই কিন্তু বৃহস্পতিবার ছাত্রদলকে মিছিল-স্লোগান সব করতে দিছে। এমনকি ওর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগের সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী মতে শিক্ষকদের ওপর দমন-পীড়নের আভিযোগও আছে।’

আলোচনায় আসার ব্যাপারে তিনি জানান, “প্রক্টর কে হবেন, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো মেসেজ আসেনি বা আমি কিছু জানি না। ভিসি স্যার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁকেই দায়িত্ব দেবেন।”

অন্যদিকে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি হাসান জুয়েলের নামও প্রক্টর পদে নিয়োগের আলোচনায় রয়েছে। তিনিও বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্বে আছেন। গত ৪ আগস্টে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ তোলেনি শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন, “নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার কাছে এ ধরনের কোনো খবর নেই। কিছুদিন অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ছিলাম, আজকেই ক্যাম্পাসে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় যদি নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেয়, সেটি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। তাঁরা যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন।”

এছাড়া আলোচনায় আছেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউট্যাবের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীতে মিল্লাত মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। তিনি তখনকার সময়ে ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ।

নতুন প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে একজন সহকারী প্রক্টর বলেন, তিনজনের নাম আলোচনায় এসেছে বলে শুনেছি৷ তবে সিদ্ধান্ত তো উপাচার্য নিবেন। এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয় নি। তিনজনের ভালো-মন্দ দিক বিচার করে উপাচার্য সিদ্ধান্ত নিবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “এই মুহূর্তে ডিন ও চেয়ারম্যান স্যারদের সঙ্গে একটি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি নিয়ে এখন ব্যস্ত আছি। মিটিং শেষ করে পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *