নৈতিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের এক দশক

Spread the love

নৈতিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের এক দশক

জবি প্রতিনিধি,

দেশের মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’ এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের এক দশক পূর্তি আলোচনা ও মিলনমেলা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট এক দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষারও সমান গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মোরাল প্যারেন্টিং’ নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “একটি রাষ্ট্র যেমন বিভিন্ন মত, ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়, তেমনি বাংলাদেশের সমাজের মূল ভিত্তি কৃষি ও কৃষক। দেশের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী, সচেতন ও উদ্ভাবনী হওয়ায় নানা সংকটেও খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। করোনা মহামারি ও জ্বালানি সংকটের সময়ও কৃষকরা বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নৈতিকতা কেবল ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। এ সময় তিনি সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, এ সংগঠনটি ‘মোরাল প্যারেন্ট’, ‘মোরাল চাইল্ড’ ও ‘ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান’—এই তিন স্তরে পরিচালিত হয়। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, আইইএলটিএস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভাষা শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। এছাড়া ভলান্টিয়ারিং, বই পড়া উৎসব, ইংলিশ আড্ডা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ উদ্যোগের সঙ্গে ১,৫৫৮ জন মোরাল চাইল্ড, ৫৯৬ জন মোরাল প্যারেন্ট এবং ৯৬ জন ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান যুক্ত রয়েছেন।###

মো শাহরিয়াজ আহম্মদ
জবি প্রতিনিধি
০১৭৭৬২১৫৬৪৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *