

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে; তিন কার্যদিবসে তদন্তের আশ্বাস উপাচার্যের
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারেক রহমান।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার জানান, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি হল প্রভোস্টকে মেনশন করে হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন। পরে তারেক রহমান তাকে ডেকে নিয়ে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
তার দাবি, একই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অভিযোগ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি জানান, এ বিষয়ে কথা বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এরপর হাসিবুর রহমান তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, তিনি প্রথমে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। খাইরুলের বক্তব্যের সময় হাসিবুর রহমান বারবার বাধা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে খাইরুল বলেন, ‘আপনি কি দলীয় প্রভাব দেখাচ্ছেন? আমার সঙ্গে কথা বলার থাকলে হল প্রভোস্ট বলবেন।’ এর পরই হাসিবুর রহমান তাকে বুকে লাথি মারেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তারেক রহমান মাথার পেছনে আঘাত করতে থাকেন। পরে দুজন মিলে তাকে মারধর করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারেক রহমান। তার ভাষ্য, হলের খাবার নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় প্রভোস্ট কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গেলে খাইরুল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায়, তার হাতে আঘাত লাগে এবং মোবাইল ফোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযুক্ত হাসিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারধরের নির্দেশ বা সমর্থন তিনি দেননি। হলের যেকোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন। সব শিক্ষার্থীই তার কাছে সমান।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।


