ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ; সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে প্রতিবাদ শাবি ছাত্রশক্তির।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আয়েশা সিদ্দিকা ছাত্রী হলের একটি অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ এবং রুম খালি না করলে সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শাবি শাখা ছাত্রশক্তি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, বিকল্প আবাসনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই শিক্ষার্থীদের রুম ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, ভবনটি যদি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে এতদিন শিক্ষার্থীদের সেখানে রাখা হয়েছিল কেন। আর যদি নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে পর্যাপ্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কেন তাদের রুম ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম না ছাড়লে সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার মতো হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপ ও সম্মানের ভিত্তিতে আচরণ করার পরিবর্তে ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি।
এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শাবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক আমিনুল ইসলাম জীবন এক প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “রুম ছাড়ো, ভিসি স্যারের অর্ডার। নইলে সার্টিফিকেট পাবে না”—এটা কি একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষা হতে পারে?
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা সবসময় দায়িত্বশীল, মানবিক ও অভিভাবকসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের জবাবে আশ্বাসের পরিবর্তে হুমকির অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যাম্পাসের প্রথম ছাত্রী হলটি ২০২২ সাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল বলে জানা যায়। যদি ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন শিক্ষার্থীদের সেখানে রাখা হয়েছিল কেন—এ প্রশ্নেরও জবাব চেয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, গতকাল রাত প্রায় ৯টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ একটি নির্দিষ্ট ব্লকের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে রুম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে কয়েকটি কক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হলেও, শিক্ষার্থীদের বিকল্প আবাসন, স্থানান্তর প্রক্রিয়া কিংবা শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাদের এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং দায়িত্ব একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যূনতম আবাসনের দাবিও উপেক্ষিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শাবি ছাত্রশক্তি চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো—ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও বাসযোগ্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও মানবিক সমাধান নিশ্চিত করা।
বিবৃতির শেষে সংগঠনটি উল্লেখ করে, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ। তাই তাদের সঙ্গে হুমকির ভাষায় নয়, বরং দায়িত্ব, সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বলাই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশিত আচরণ।

