ঢাকা, ২৮ জুন ২০২৬ — বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশের তরুণেরা যে এখন আর পিছিয়ে নেই, তার আরও একটি বড় প্রমাণ মিলল বিশ্বমঞ্চে। বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড স্টার্টআপ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর ফাইনাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘MediLinkX’।
আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে এই মেগা ইভেন্টের ফাইনাল। এর আগে ২০ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে দুই দিনের ‘অ্যান্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বুটক্যাম্প’ (Entrepreneurship Bootcamp)।
MediLinkX-এর নেপথ্যের কারিগর:
এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছেন দেশের দুই মেধাবী তরুণ—বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস (BUHS)-এর বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মুকাদ্দিমুল হক মুন্ইম এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস. এম. হাসিনুর রহমান। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলেই MediLinkX আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
কঠিন লড়াই পেরিয়ে ফাইনালে:
প্রতিযোগিতার আয়োজক ‘SEE Pakistan’ (Startup Expo & Entrepreneurship Ecosystem Pakistan) জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার স্টার্টআপ এই প্রতিযোগিতায় আবেদন করেছিল। অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের পর মাত্র ১০০টি স্টার্টআপকে ফাইনালের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের MediLinkX অন্যতম।
মোঃ মুকাদ্দিমুল হক মুন্ইম তার এই অর্জন নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “হাজারো আবেদনের মধ্যে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য চরম সম্মানের। এই সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
কেন এই ইভেন্ট এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই আন্তর্জাতিক এক্সপোতে উপস্থিত থাকবেন ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামিদামি বিনিয়োগকারী (Investors), শিল্প বিশেষজ্ঞ (Industry Experts) এবং ১০০টিরও বেশি গ্লোবাল স্টার্টআপ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিকে (Health-Tech) বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার এক বিশাল সুযোগ।
মোঃ মুকাদ্দিমুল হক মুন্ইম এবং এস. এম. হাসিনুর রহমান শুধু তাদের স্টার্টআপের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন ১৭ কোটি বাঙালির স্বপ্নের। এখন পুরো দেশের চোখ থাকবে ২২ আগস্টের লাহোর এক্সপোর দিকে।
বাংলাদেশের এই দুই তরুণ উদ্ভাবকের জন্য রইল শুভকামনা। বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উচ্চারিত হোক বাংলাদেশের নাম!
