দায়সারা আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

Spread the love

দায়সারা আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

বেরোবি প্রতিনিধি

সীমিত সাজসজ্জা, সংক্ষিপ্ত র‍্যালি, আবাসিক হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা না থাকা এবং বাইরের অতিথিদের আমন্ত্রণ না জানিয়েই সাদামাটাভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে উপাচার্যের অনুপস্থিতি এবং আলোচনা সভায় তিনটি অনুষদের ডিনকে আলোচক হিসেবে না রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব নিয়ে ক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত র‍্যালি বের করা হয় এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে সকালের কর্মসূচি শেষ হয়। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের কয়েকটি সড়ক ও প্রশাসনিক ভবনে সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হলের সড়কসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তেমন কোনো সাজসজ্জা ছিল না। এ ছাড়া আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রত্যাশিত উৎসবের আমেজ তৈরি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন না উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের আমন্ত্রণে তিনি বর্তমানে ভিয়েতনামে অবস্থান করছেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাইরের কোনো বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ মাসে আমাদের আরও অনেকগুলো প্রোগ্রাম হয়ে গেছে। ফলে বাইরে থেকে তেমন কোনো অতিথিকে জানানোর সুযোগ হয়নি।

আলোচনা সভার আলোচক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ড. মো. তাইজুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে রয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নুর আলম সিদ্দিক এবং জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোছা. সিফাত রুমানা। তবে কলা, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিনদের আলোচক হিসেবে রাখা হয়নি।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা দীপা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এবারের আয়োজন একেবারেই সাদামাটা। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এমন একটি বিশেষ দিনে সবার মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ থাকার কথা, তা চোখে পড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণিল আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হোক। দিনটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আনন্দ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের সবার আবেগ, ভালোবাসা ও গর্বের জায়গা। তাই এই বিশেষ দিনটি এমনভাবে উদ্‌যাপন করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে।

আরেক শিক্ষার্থী সানোয়ার অভি বলেন, দিন দিন মানুষের উন্নতি হয়, কিন্তু আমাদের হয় অবনতি। আগের অনুষ্ঠানগুলো জাঁকজমকপূর্ণ করা হলেও এবার খুবই সাদামাটাভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুখতার ইলাহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ দিবসগুলোতে হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ধরনের আনন্দঘন দিনে উন্নত মানের খাবারের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হওয়া সত্ত্বেও হলে বিশেষ কোনো খাবারের আয়োজন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় আমরা অত্যন্ত হতাশ।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমাদের আজকের আয়োজন সারাদিনব্যাপী। সকালের পর্ব শেষ হয়েছে। বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। সন্ধ্যায় আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো হবে। আশা করি, সব মিলিয়ে সুন্দর ও গোছানো একটি আয়োজন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *