বাকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবস: শিক্ষার্থী ও স্কুল-মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে চার হাজার ডিম বিতরণ
সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগ ও ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার (ডব্লিউপিএসএ-বিবি) যৌথ উদ্যোগে ‘বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস চত্বরের সাত স্কুল-মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে চার হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের সামনে থেকে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষদের গেটের সামনে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।

র্যালিটি পশুপালন অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। পরে দুপুরে সেখানে ‘প্রোটিন যা শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’ প্রতিপাদ্যে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ডব্লিউপিএসএ-বিবি’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনিম্যাল হাজবেন্ড্রির ডিন অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউপিএসএ-বিবি’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সিরাজুল হক, পোলট্রি কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রফিকুল হক এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান। এছাড়া পশুপালন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বাপন দে। মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বিশ্বে উৎপাদিত প্রায় ১০ কোটি মেট্রিক টন ডিমের মধ্যে এককভাবে এশিয়া অঞ্চল থেকে এসেছিল প্রায় ৬০শতাংশ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৫০৯ কোটি ডিম। বর্তমানে একজন মানুষের জন্য বছরে গড়ে প্রায় ১৩৭টি ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে, যেখানে বার্ষিক চাহিদা ধরা হয়েছে ১০৪টি।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ডিম অন্যান্য খাবারের তুলনায় খুব সহজেই প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার উপযোগী করা যায়। ডিমকে রেডি-টু-ইট খাবার হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ অনেকেই সেদ্ধ ডিম খেতে পছন্দ করেন না। বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ডিম বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ডিম বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে তা আরও ভালো হতো।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, মানুষকে ডিম সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ তুলনামূলক কম। কারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ডিম কিনছে ও গ্রহণ করছে। তাই ডিমের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা ৬ কোটি ডিম। ডিমের উৎপাদন বাড়লে এবং দাম কমলে মানুষের ডিম খাওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এ জন্য আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরিতে নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
