শুধু সাইড গ্লাস ভেঙেছে—উস্কে দিয়ে মব করার পরিকল্পনা করেছেন কেন?” প্রক্টরের শোকজ নোটিশ ঘিরে তীব্র সমালোচনা।

Spread the love

“শুধু সাইড গ্লাস ভেঙেছে—উস্কে দিয়ে মব করার পরিকল্পনা করেছেন কেন?” প্রক্টরের শোকজ নোটিশ ঘিরে তীব্র সমালোচনা।

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি,
দুর্ঘটনার পর বাস আটকানোর আহ্বান, একাধিক শাবি শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের বহনকারী লেগুনাকে একটি বিলাস পরিবহনের বাস ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসটি আটকানোর আহ্বান জানানোকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একাধিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিমকে দেওয়া একটি শোকজ নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।
ওই নোটিশে আবরারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘উস্কে দিয়ে’ সংশ্লিষ্ট গাড়ি আটকানোর পরিকল্পনা এবং ‘মব’ তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
শোকজ নোটিশে যা বলা হয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে সিলেটগামী একটি বিলাস পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি লেগুনার দুর্ঘটনা ঘটে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং বাস মালিক সমিতির সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত হয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করা হয়।
তবে প্রক্টর অফিসের অভিযোগ, আবরার বিন সেলিম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে সংশ্লিষ্ট গাড়িটি আটকানোর পরিকল্পনা করেছেন। এর ফলে শিক্ষার্থী, স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


নোটিশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য আবরারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবরার বিন সেলিমের পোস্টে যা ছিল
২৫ জুলাই আবরার বিন সেলিমের দেওয়া ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফেরার পথে সুনামগঞ্জে ঢাকা রুটের একটি বিলাস বাস রাত ১০টা ২৮ মিনিটে সিএসই বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী থাকা একটি লেগুনাকে ধাক্কা দিয়ে নিলপুরে ফেলে দেয়।
পোস্টে তিনি সিলেটের তেমুখী বাইপাসে বিলাস বাসটি আটকানোর আহ্বান জানান।
প্রক্টর অফিসের শোকজ নোটিশে ওই ফেসবুক পোস্টের কর্মকাণ্ডকেই শিক্ষার্থীদের উস্কে দেওয়া এবং গাড়ি আটকের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ঘটনার বিষয়ে মোস্তাকিম বিল্লাহর পোস্ট
এদিকে একই দুর্ঘটনার বিষয়ে শাবি শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহর ২৫ জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও সামনে এসেছে।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে সিলেট আসার পথে সুনামগঞ্জে ঢাকা রুটের একটি বিলাস বাস রাত ১০টা ২৬ মিনিটে সিএসই বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী থাকা একটি লেগুনাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে ফেলে দেয়।
পোস্টের একপর্যায়ে তিনি লেখেন, “বিলাস বাসটিকে তেমুখী বাইপাসে আটকানোর জন্য আমরা শাবিয়ানরা একত্রিত হয়েছি।”


অর্থাৎ, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বাসটি আটকের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থীর পোস্ট সামনে এসেছে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
প্রক্টরের শোকজ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
শোকজ নোটিশটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মন্তব্যে প্রক্টরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শাবি শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসাইন মন্তব্য করেন, “ধরুন ছেলেটা কারণ দর্শীয়ে উত্তর দিলোনা, কি কি শাস্তি হতে পারে এটা জানতে চেয়ে প্রক্টরকে কমেন্ট করলাম।
ধন্যবাদ।”
রিয়াজ হোসেন লিমন লিখেন, “আবরার বিন সেলিমের পোস্টে যদি উস্কানিমূলক এবং মব তৈরির পরিকল্পনা করার কথা প্রমানিত করতে পারে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


অন্যথায় আবরারের মানহানি করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রক্টরের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
আসাদুল্লাহ আল গালিব লিখেন, “এই চিঠির জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রক্টরকে শোকজ করো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ শান্ত রাখতে এমন অদক্ষ এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রশাসন থেকে সরানো অথবা বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ভিসির দৃষ্টি আকর্ষণ কর।”
আতাউর রহমান লিখন প্রশ্ন তুলে বলেন, “শিখছে একটা শব্দ। কিছু হলেই মব হয়ে যাবে। যে স্টুডেন্ট রা ঝামেলায় পড়েছিলো। প্রশাসন তাদের হয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলো তখন বাস ড্রাইভার এর বিরুদ্ধে?”
‘মব’ তৈরির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
শোকজ নোটিশকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বাসটি আটকের আহ্বান জানানো এবং পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করা—দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখা যায় কি না।
তাদের কেউ কেউ বলছেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি সত্যিই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা সংঘবদ্ধ হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে উস্কানি দিয়ে থাকেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় লেগুনায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বাসচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ করে তাদের প্রশ্ন—যে ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, সেই ঘটনার পর তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী ছিল?
এদিকে, একাধিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও তাদের সবার নোটিশ প্রকাশ্যে আসেনি। আবরার বিন সেলিমকে দেওয়া নোটিশের মাধ্যমে অভিযোগের একটি দিক সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও আলোচনায় এসেছে।
শোকজের জবাবে আবরার কী ব্যাখ্যা দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তীতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *