শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিকের শোষিত মানুষের পক্ষে প্রতীকী প্রতিবাদ—চাষাভূষার পোশাকে ভাইভা

Spread the love

শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিকের শোষিত মানুষের পক্ষে প্রতীকী প্রতিবাদ—চাষাভূষার পোশাকে ভাইভা, শিক্ষকদের প্রশংসা

এক ফেসবুক পোস্টে আশিকুর রহমান আশিক লিখেন, “তোমরা চাষাভূষার টাকায় পড়াশোনা করো”—বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে এই বাক্যটি বহুবার শিক্ষকদের মুখে শুনেছি। কিন্তু আজ যখন চারদিকে তাকাই, দেখি সেই ‘চাষাভূষা’ আর মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা ও বৈষম্য।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দুজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। জানি না তাঁদের মৃত্যুর পর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্র পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা যদি নেওয়া হয়েই থাকে, তবে প্রতিবছর কেন শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে? সেটার জবাবদিহি করার কেউ নেই। তাঁদের জন্য খুব কম মানুষই আওয়াজ তোলেন, কারণ তাঁরা শ্রমিক, চাষাভূষা। তাদের বেলায় প্রতিবাদের ভাষা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি ‘স্যাড রিঅ্যাক্ট’ আর কয়েক শব্দের কমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজ বরাবরের মতোই নীরব।

যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে—আমাদের কৃষক, শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সকল মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে অবহেলা, উদাসীনতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমি আমার তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল ভাইভায় প্রথাগত ‘ফরমাল’ পোশাকের পরিবর্তে মেহনতি মানুষের চিরচেনা পোশাক লুঙ্গি ও গামছা পরে অংশ নেই।

ভাইভা বোর্ডে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমার প্রতিবাদের ভাষাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বর্তমানে সারাদেশে কৃষকের সোনার ধান তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাঁদের বিপদে রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে পাশে থাকার অনুরোধ করছি। আল্লাহ আমাদের কৃষকদের প্রতি রহম করুন। মেহনতি মানুষদের প্রতি সকল ধরনের উদাসীনতা ও বৈষম্য দূর হোক, আমিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *