ট্যাগ দিয়ে আমাকে দমাতে পারবেন না, অন্যকে ট্যাগ দেওয়ার আগে নিজেদের অতীতের দিকে তাকান

Spread the love

ট্যাগ দিয়ে আমাকে দমাতে পারবেন না, অন্যকে ট্যাগ দেওয়ার আগে নিজেদের অতীতের দিকে তাকান

গত ছয় মাস ধরে আমি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা (ছাপনি) দপ্তরে এক আশ্চর্যজনক সময় পার করছি। ছাপনি’র একজন সাবেক পরিচালক স্যার ইসলামিক নলেজ সিকারস সোসাইটি, ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি, জাস্ট রিসার্স সোসাইটি ও চেস ক্লাব—এই চারটি ক্লাবের নিবন্ধন অনুমোদনের জন্য তৎকালীন উপাচার্য মহোদয়ের নিকট সুপারিশসহ প্রেরণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায়, প্রায় এক বছর পর সাবেক উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বের চারটি ক্লাবসহ মোট সাতটি ক্লাবের নিবন্ধনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন সাতটি ক্লাবের মধ্যে প্রবাহ সাংস্কৃতিক সংঘ ও জাস্ট স্পোর্টস ক্লাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনটি নতুন ক্লাবসহ আরও অনেক ক্লাব আওয়ামী সময়ে ঐ সাবেক পরিচালকের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছে। তাহলে শুধু নিজেকে ‘বিশেষ রংয়ের দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সব ক্লাবকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখানোর চেষ্টা কেন? কোনো ক্লাবের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা কোনো ক্লাবকে দাপ্তরিক সহযোগিতা করাকে রাজনৈতিক আদর্শের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আমি দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাবের একমাত্র উপদেষ্টা হবেন পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) মর্মে তৎকালীন পরিচালক একটি অফিস আদেশ জারি করেছিলেন। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের রুটিন দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাবকে সহযোগিতা করে আসছি। অথচ সকল ক্লাবকে সমানভাবে সহযোগিতা করার পরও কেউ কেউ অভিযোগ করছেন যে আমি নাকি কিছু ক্লাবকে পৃষ্ঠপোষকতা করছি। যারা ঐ কিছু কিছু ক্লাবের অনুমোদন ও সুপারিশ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারাও এখন বিষয়টিকে আমার রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়াকেই ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

১৩ এপ্রিল ২০২৬-এর পর নতুন প্রশাসনের কাছে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের লেবেল ব্যবহার করে প্রশাসনের অংশ হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে—এমনটাই আমার পর্যবেক্ষণ। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার পরও এখন নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করে আমার ওপর পূর্ববর্তী প্রশাসনের মিথ্যা রাজনৈতিক রং চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা আজ আমাকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের কেউই ৫ আগস্টের আগে কোথাও দাঁড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন—এমন নজির আমি দেখিনি। এমনকি ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘদিন (৬-৭ বছর) থাকা অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় ও অমানবিক আচরণের সময়ও তিনি নীরব ছিলেন। বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐসকল উপাচার্যদের আশীর্বাদে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বেও এসেছেন। আমার পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপে আজ আমি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্বে চলমান আছি বলেই আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো—দক্ষতার মাধ্যমে পদে থাকা আর রাজনৈতিক পরিচয় কি একই বিষয়?

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে আমি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। সেটিকে যদি আমার কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, করতে পারেন। আমি জুমার নামাজ পড়ি। আপনারাও জুমার নামাজ পড়েন—এটা আমি জানি। তাহলে জুমার নামাজ পড়াকেও যদি রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই যুক্তির সীমা কোথায়?
শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ন্যায্য দাবির কথা বলা কিংবা ধর্মীয় একটি ইবাদত পালন—এসব বিষয়কে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই ভয় পাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ফোন করে আমাকে একসঙ্গে চলার যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তাতে আমি সম্মত হইনি। সেটিও কি আমার রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের আরেকটি কারণ? আপনাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে আজ এটুকু বলতেই হয়—সেদিন আপনাদের আহ্বানে একসঙ্গে না চলার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
পরিস্থিতিকে আপনারা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন যে, আমার সঙ্গে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দাপ্তরিকভাবে সমন্বয় করে যারা কাজ করছেন, তাদেরও রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করা হচ্ছে। অথচ তাদেরও একসময় ডেকে নিয়ে আপনাদের দলের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারা রাজি হননি। হয়তো আপনাদের অতীত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে।
তাহলে কি, যারা আপনাদের সঙ্গে চলবেন না, তাদের প্রত্যেককেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে?

আপনাদের দলের স্বঘোষিত একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেও আগ্রহী ছিলেন না। তার বক্তব্য ছিল, তার মতাদর্শ ভিন্ন। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন ট্রেজারার স্যারও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন। অথচ সেই ব্যক্তিই তৎকালীন উপাচার্য স্যারকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ে অভিহিত করে বেড়াতেন। কিন্তু একই সময়ে সেই উপাচার্যের আমলেই তিনি আবেদনের আনুমানিক ১৫–২০ দিনের মধ্যে পদোন্নতি লাভ করেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই বিভাগের একই পদের জন্য সেটি ছিল একই রিজেন্ট বোর্ডের অধীনে দ্বিতীয় পদোন্নতি বোর্ড। এত দ্রুত এমন পদোন্নতি কীভাবে হলো—এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে।
আমি কারও ব্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *