জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বুটেক্সে কেন্দ্রীয় আয়োজনের অভাব, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

Spread the love

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বুটেক্সে কেন্দ্রীয় আয়োজনের অভাব, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

সুব্রত কুমার পাল, বুটেক্স প্রতিনিধি

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোন আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও শহীদদের স্মরণ ও স্মৃতিচারণ আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী কিংবা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বুটেক্সে ৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিতি কম থাকার কারণ দেখিয়ে ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরবর্তী অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। কেবল আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন এমন কোনো কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক, স্মরণমূলক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়নি।

দিনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার। তিনি বলেন,”আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে, যা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকের দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।”

জুলাইয়ের চেতনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন,”জুলাই মানে সাম্যতা ও ন্যায্যতা। মুখে আমরা জুলাইয়ের সাম্যতার কথা বলছি, অথচ আজকের দিনে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন নেই। যারা জুলাইয়ের সুবিধা নেবে, তাদের জুলাইয়ের দায়টাও নিতে হবে। আমরা যারা ৩৬ জুলাই রাস্তায় ছিলাম, আজ তারা কেউ কোনো কিছুতেই নেই। বর্তমান প্রশাসনেরও এই দিনটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।”

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন,
“৫ আগস্টে বুটেক্সের হলগুলোতে ফিস্ট ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন নেই। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে অংশ নেওয়া বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

পাশাপাশি আন্দোলনের পর এসব শিক্ষার্থীর ‘পোস্ট-জুলাই ট্রমা’ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সেলিং হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,”৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। অথচ সেই দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করা যেত। আন্দোলনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের সম্মাননাও দেওয়া যেত।”

টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন,”সীমিত পরিসরে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এর বাইরে থেকে গেছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।”

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *