বাঁচতে চান হাস্যোজ্জ্বল বৃষ্টি, প্রয়োজন ৩৫ লাখ টাকা

Spread the love

বাঁচতে চান হাস্যোজ্জ্বল বৃষ্টি, প্রয়োজন ৩৫ লাখ টাকা

বেরোবি প্রতিনিধি

যে মেয়েটির হাসি ক্যাম্পাসের নানা আয়োজনে প্রাণ ছড়াত, যার সাবলীল উপস্থাপনায় জমে উঠত অনুষ্ঠান, সেই বৃষ্টি প্রামাণিকের জীবনেই এখন নেমে এসেছে কঠিন এক লড়াই। একসময় বিতর্ক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আর কর্মজীবনের ব্যস্ততায় কাটত তাঁর দিন। সামনে ছিল নতুন সংসারের স্বপ্ন। কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর বদলে দিয়েছে জীবনের চেনা ছন্দ। এখন সব স্বপ্ন ছাপিয়ে তাঁর চাওয়া, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা।

বৃষ্টি প্রামাণিক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন নানা গঠনমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে। বিনয়ী আচরণ, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হন বৃষ্টি। বিতর্ক চর্চার পাশাপাশি সংগঠনটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একসময় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। শুধু বিতর্কেই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবেও ছিল তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলার গুণ ছিল তাঁর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনেও নিজের পথ তৈরি করেছিলেন বৃষ্টি। ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন কিছুদিন। বর্তমানে যক্ষ্মা কর্মসূচির প্রোগ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়া, নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, নতুন করে জীবন সাজানোর প্রস্তুতি, সব মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় ছিল।

সেই পথচলায় নতুন একটি অধ্যায় শুরুর প্রস্তুতিও চলছিল। গত ৭ আগস্ট সম্পন্ন হয়েছে বৃষ্টির বাগ্‌দান। দুই পরিবারের সম্মতিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর বিয়ের দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সংসার ঘিরে ছিল নানা পরিকল্পনা, কেনাকাটা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন।

কিন্তু আনন্দের সেই প্রস্তুতির মধ্যেই আসে দুঃসংবাদ। বৃষ্টির শরীরে ধরা পড়ে ক্যানসার। মুহূর্তেই বদলে যায় জীবনের হিসাব-নিকাশ। বিয়ের আয়োজন কিংবা নতুন সংসারের পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার লড়াই। এখন তাঁর ও পরিবারের সবচেয়ে বড় চাওয়া, চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।

কিন্তু সেই লড়াইয়ের পথে বড় বাধা চিকিৎসার ব্যয়। বৃষ্টির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। চিকিৎসা করাতে হবে ভারতে। পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বন্ধুবান্ধব, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর চিকিৎসার জন্য সহায়তা সংগ্রহ করছেন।

বৃষ্টির অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতজনদের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ‘বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না’ শিরোনামের একটি আহ্বান। সেখানে পরিচিতজনেরা তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। বৃষ্টি নিজেও সেই পোস্ট শেয়ার করেছেন।

একসময় অন্যদের সঙ্গে হাসিমুখে সময় কাটানো, বিতর্কে অংশ নেওয়া কিংবা মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এখন সেই মানুষটিই কঠিন সময় পার করছেন, তাকেই প্রয়োজন সবার সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন।

বৃষ্টির জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো ব্যক্তিরা আশা করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, চিকিৎসার বাধা পেরিয়ে আবারও হাসিমুখে ফিরবেন বৃষ্টি। ফিরে পাবেন তাঁর চেনা জীবন, কর্মব্যস্ততা আর স্বপ্ন পূরণের সুযোগ।

বৃষ্টির পাশে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা নয়, বরং তাঁর সামনে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করা। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট-বড় যেকোনো সহযোগিতাই এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের জন্য হতে পারে বড় ভরসা।

বৃষ্টির চিকিৎসায় সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম

বিকাশ: ০১৮৬২৭৪৪৫৩৭
প্রাপক: বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার

নগদ (পারসোনাল): ০১৮৬২৭৪৪৫৩৭
প্রাপক: বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম: বৃষ্টি প্রামাণিক
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০২৯৯১০১০০২৫৬২
ব্যাংক: পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, রংপুর শাখা
রাউটিং নম্বর: ১৭৫৮৫১৪৫০

বৃষ্টির চিকিৎসা ও সহায়তা পাঠানোর বিস্তারিত তথ্য জানতে donatebristi.xyz ওয়েবসাইটটি দেখা যেতে পারে।

সব বাধা পেরিয়ে বৃষ্টি আবারও ফিরবেন তাঁর চেনা হাসি নিয়ে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখবেন, এমন আশাতেই অপেক্ষায় তাঁর পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের এই প্রত্যাশা পূরণে এখন প্রয়োজন সবার সম্মিলিত সহযোগিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *