যবিপ্রবিতে রিটেক নীতিমালায় পরিবর্তনের নামে বৈষম্যের অভিযোগ: সংকটে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত নতুন একাডেমিক নীতিমালা ও রিটেক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংস্কারের নামে এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রহসনতুল্য।
সংকটের মূলে ৫ হাজার টাকার রিটেক ফি
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগে যেখানে স্বাভাবিক ফি-তে রিটেক পরীক্ষার সুযোগ ছিল, সেখানে বর্তমানে ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫,০০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ২০২২-২৩ ব্যাচ একই সমস্যায় পড়লে আন্দোলনের মুখে তাদের জন্য নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ব্যাচের ক্ষেত্রে কোর্সের নাম বা টাইটেল পরিবর্তনের অজুহাতে সরাসরি এই মোটা অঙ্কের ফি দাবি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তৃতীয় বর্ষে উন্নীত হওয়ার আগেই ১ম বর্ষের সকল রিটেক সম্পন্ন করার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অথচ কোর্স কোড পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জটিলতায় তারা গত ৬ মাস ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো:
অতিরিক্ত ফি বাতিল: ৫,০০০ টাকার অতিরিক্ত রিটেক ফি ও জরিমানা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে পূর্বের নিয়ম বহাল করা।
ট্রানজিশন ব্যবস্থা: কোর্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত ও সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা যাতে কোনো শিক্ষার্থী একাডেমিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।
বৈষম্য নিরসন: পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর ন্যায় একই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্মিলিত কণ্ঠস্বরই পারে প্রশাসনকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে।
শিক্ষার্থীদের মতে, একাডেমিক নীতিমালা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীবান্ধব, শাস্তিমূলক নয়। যেহেতু একাডেমিক কমিটির মাধ্যমেই এই নিয়ম করা হয়েছে, তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে একই কমিটির মাধ্যমে এই নিয়ম সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সাধারণ অসন্তোষ ভবিষ্যতে আরও বড় একাডেমিক বিশৃঙ্খলার রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
