
৩ তরুণের ‘নিরাপদ শব্দ’: বিশেষ শিশুদের রক্ষায় নামল জাদুকরী ডিজিটাল কবচ!
ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬: আমাদের সমাজের সবচাইতে অবহেলিত আর নিভৃতে কাঁদা বিশেষ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ঢাকার ৩ অদম্য তরুণ নিয়ে এল ‘নিরাপদ শব্দ’ (Nirapod Shobdo)। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও পাইজারের মেধাবী ছাত্র নিলয় আহসান, জাহিন জাওয়াদ ও রাবাবা হুমা বিশ্বাসের উদ্ভাবিত এই অ্যাপটি গত ১২ এপ্রিল আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ‘সিভিক টেক ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এ ১ লাখ টাকা পুরস্কারসহ সেরার মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে, যা এখন দেশজুড়ে এক বৈষম্যহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। (সূত্র: সিভিক টেক ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬)।
অ্যাপটি কেবল ডাটা বা কোডিংয়ের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি ‘ডিজিটাল জাস্টিস’ প্ল্যাটফর্ম। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক অ্যাপে রয়েছে ভয়েস-ভিত্তিক সহায়তা এবং সহজ ডিজিটাল ফর্ম, যার মাধ্যমে বুলিং বা হয়রানির শিকার শিশুটি মুহূর্তেই তার অভিযোগ জানাতে পারবে। ডাটালিস্ট অনুযায়ী, ৬ মাসের নিবিড় গবেষণার পর এই প্রকল্পটি এখন সরকারের a2i প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এই আয়োজনে অংশ নেওয়া সেরা ১০টি প্রজেক্টের মধ্যে ‘নিরাপদ শব্দ’ তার মানবিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে সেরাদের সেরা নির্বাচিত হয়েছে। (সূত্র: ডাটালিস্ট ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ)।
একজন আইনজীবী ও সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে এটি একটি আইনি মাইলফলক। দেশের শীর্ষ আইনি সহায়তা সংস্থা ব্লাস্ট (BLAST) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসা প্রতিটি অভিযোগের শতভাগ লিগ্যাল সাপোর্ট নিশ্চিত করবে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, যখন একটি শিশু বুঝতে পারে তার কথা শোনার জন্য একটি শক্তিশালী ‘ডিজিটাল কবচ’ আছে, তখন তার মনের ‘আমি একা নই’—এই বোধটি তার মানসিক বিকাশে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। দর্শনের ভাষায় বলতে গেলে, প্রযুক্তির উৎকর্ষ তখনই সার্থক হয় যখন তা সমাজের অন্ত্যজ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। (সূত্র: ব্লাস্ট ও জাহিন জাওয়াদ)।
টিম লিডার জাহিন জাওয়াদ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু স্কুলভিত্তিক সমাধান নয়, আমরা চাই দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশু সম্মান ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে বেড়ে উঠুক। এই অ্যাপটি তাদের সেই কণ্ঠস্বর, যা এতদিন চাপা পড়ে ছিল।” আইসিটি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটির ক্ষেত্রে একটি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড উদাহরণ হতে যাচ্ছে। (সূত্র: আইসিটি টাওয়ার রিপোর্ট)।
আমাদের আগামীর বাংলাদেশ হবে এমন এক প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজ, যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হবে না। এই তিন তরুণের জাদুকরী উদ্ভাবন কি আমাদের অন্ধকারের বিরুদ্ধে এক চিরস্থায়ী আলোর মশাল নয়?
(সূত্র: বেঙ্গল প্রেস নিউজ ডেস্ক)





