অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের সহায়তায় অ্যাপ ‘অনুরণ’, উদ্ভাবনে যবিপ্রবির ছয় শিক্ষার্থী

Spread the love

যবিপ্রবি প্রতিনিধি:

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারের সহায়তায় প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘অনুরণ (ANURON)’ তৈরি করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছয় শিক্ষার্থী। প্রযুক্তির মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি, তাদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে এই উদ্যোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি ভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে অনুরণ অ্যাপ। এর উদ্যোক্তারা হলেন—শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সিমান্ত বিশ্বাস, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ভূমি পোদ্দার দিয়া, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শ্রেষ্ঠা সাহা অথৈ, মার্কেটিং বিভাগের মো. আরাফ হোসেন, ইংরেজি বিভাগের কেয়া মনিষা এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের সাদিফ উজ জামান।

অনুরণের মূল লক্ষ্য হলো অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর সহায়ক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। অ্যাপটির মাধ্যমে একটি সমন্বিত কমিউনিটি গড়ে তোলার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোগটির অন্যতম উদ্যোক্তা সিমান্ত বিশ্বাস বলেন, “আমরা মনে করি, প্রতিটি শিশুর নিজস্ব কিছু সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু এবং তাদের পরিবার অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। আমরা অনুরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি অ্যাপ তৈরি করা নয়, বরং এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।”

অ্যাপটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিকল্পনা সম্পর্কে উদ্যোক্তা শ্রেষ্ঠা সাহা অথৈ বলেন, “অনুরণকে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা অ্যাপটি তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। আমরা চাই, অ্যাপটি যেন শুধু একটি ডিজিটাল মাধ্যম না হয়ে তাদের জন্য বাস্তবিক অর্থেই সহায়ক একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।”অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে অনুরণ টিম। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের আগ্রহ ও অনুভূতি বোঝা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। এসব অভিজ্ঞতা অ্যাপটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।অনুরণের উদ্যোক্তাদের মতে, প্রযুক্তি ও মানবিক উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের জন্য আরও সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অ্যাপটির কার্যক্রম ও পরিসর আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

যবিপ্রবির ছয় শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগ তরুণদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাদের প্রত্যাশা, ‘অনুরণ’ একদিন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *