শাবিপ্রবিতে ফের শাকসুর দাবিতে বিক্ষোভ; রবিবারের মধ্যে শাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত শাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
কর্মসূচিতে প্রার্থী রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, গত ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের আগে রিট আবেদনের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। তার দাবি, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর একটি দলের ইন্ধনে করা রিটের কারণে চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।

রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে আমাদের শাকসু পুনরায় দেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বসতে চেয়েছি, কিন্তু তারা বসতে চায় না।’
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো কার্যকর প্রতিনিধি নেই। এ কারণে প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
শাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় প্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন রিয়াজ। তার দাবি, অনেকে ঋণ করে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করেছেন। তাদের সেই ঋণ প্রশাসনকে পরিশোধ করতে হবে।
এ সময় উপাচার্যের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রিয়াজ হোসেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে উপাচার্য এক সংবাদ সম্মেলনে শাকসু নির্বাচন হলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা সহযোগিতা করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার পুরস্কার পেয়েছেন। এখন আপনি শিক্ষার্থীদের শাকসু নির্বাচন দিন।’

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবরার রাশিদ অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের যোগসাজশে শাকসু নির্বাচন বন্ধ হয়েছিল। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবরার রাশিদ বলেন, ‘আমরা কিন্তু জুলাই থেকে উঠে আসা মানুষ। আমরা চাই, এই প্রশাসন, এই সরকার আমাদের শিক্ষার্থীদের চাওয়াটা বুঝুক। যদি শিক্ষার্থীদের দাবি বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণাম খুব একটা সুখকর হবে না বলে আমরা মনে করি।’
অন্যদিকে ছাত্রশিবির প্যানেলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ শাকসু নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও ছাত্রদলের ষড়যন্ত্রের কারণেই শাকসুর একদিন আগে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটা আমাদের সবার কাছে পানির মতো পরিষ্কার।’
উপাচার্যের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘আপনার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন, তখন আপনি ৯ হাজার শিক্ষার্থীর উপাচার্য। রাজনৈতিক পরিচয় এক পাশে রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।’
রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি। শাকিল বলেন, রবিবারের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। অতীতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় মাসের পর মাস বন্ধ থাকার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করলে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২৮ বছর পর শাকসু নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ২০ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার দুই দিন আগে, ১৮ জানুয়ারি, তিন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার চার সপ্তাহ পর শাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করার সুযোগের কথা বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।
