গুণগত উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্তে মাভাবিপ্রবি, BAC অ্যাক্রেডিটেশনে প্রশিক্ষণ

Spread the love

গুণগত উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্তে মাভাবিপ্রবি, BAC অ্যাক্রেডিটেশনে প্রশিক্ষণ

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) থেকে স্বীকৃতি অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলাম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত নিশ্চয়তা সেল (IQAC) কনফারেন্স রুমে IQAC-এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT) বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি তা অর্জনের জন্য সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি জানান, মাভাবিপ্রবিতে রোবটিক্স, ট্রিপল-ই (EEE) ও আর্কিটেকচারের মতো আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে AI ল্যাব স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে। ল্যাবটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক কাজের সুযোগ পাবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশনের মানদণ্ড পূরণে একাডেমিক কার্যক্রম, কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণের একটি অধিবেশনে ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও একাডেমিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। সময়োপযোগী কারিকুলাম, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে মাভাবিপ্রবির আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। CSE ও ICT বিভাগের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অগ্রণী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির ‘CLO/PLO সংশোধন ও CLO অর্জন নিশ্চিতকরণে মূল্যায়ন কৌশল’ এবং ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি’ বিষয়ে আলোচনা করেন। IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াক আহমদ ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি কোর্স আউটলাইন তৈরির ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এছাড়া IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম কোর্স ফাইল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে BAC অ্যাক্রেডিটেশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহায়তা, কোর্স আউটলাইন তৈরি, কোর্স ফাইল সংরক্ষণ, CLO/PLO সংশোধন, মূল্যায়ন কৌশল এবং গুণগত নিশ্চয়তা (QA) কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুপুরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতের ওপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রশ্নোত্তর ও গুণগত নিশ্চয়তা (QA) সেশনের মাধ্যমে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *