ইবিতে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র্যাগিং-নিপীড়নের অভিযোগ, সোচ্চারের প্রতিবাদ
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘পরিচয়পর্ব’-এর নামে র্যাগিং ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক (এসএসএন), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সোমবার (১০ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলুর যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটির বিষয়ে প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে নবীন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘসময় আটকে রাখা, মানসিকভাবে হেনস্তা করা, অশালীন আচরণে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও প্রচার, শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন সহিংসতার হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর বিষয় উঠে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, অপমানজনক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ কিংবা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলা কোনোভাবেই ‘ম্যানার শেখানো’, ‘পরিচয়পর্ব’ বা ‘সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের’ অংশ হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি আঘাত করা।
তারা অভিযোগগুলো তদন্তে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার দাবি জানানো হয়। তদন্তের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, লিখিত অভিযোগ এবং ভিডিওসহ ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়াও জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হুমকি, সামাজিক হয়রানি বা অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ইবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ম্যানার শেখানোর নামে নবীন শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের মানসিক-শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে। পরে ভুক্তভোগী ১৬ জন শিক্ষার্থী বিভাগের শিক্ষক বরাবর অভিযোগ দেয়।

