গাজায় হামলার প্রতিবাদে বুটেক্সে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন

Spread the love

গাজায় হামলার প্রতিবাদে বুটেক্সে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন

সুব্রত কুমার পাল, বুটেক্স প্রতিনিধি

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে পতাকা উত্তোলন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলরব প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘আমেরিকার দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ইসরায়েলের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’—এ ধরনের স্লোগান শোনা যায়। এ সময় কিছুক্ষণ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও চলমান মানবিক সংকটের প্রতিবাদ জানাতেই এ আয়োজন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তাঁরা।

এ বিষয়ে ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক দিপু বলেন, “আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা। আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকলেও ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে আছি—পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাই। তাদের ওপর চলমান নির্যাতন, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট যেন আমাদের চিন্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে হারিয়ে না যায়।”

ফিলিস্তিনের মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকারের কথা তুলে ধরে ৫২তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, “গত কয়েক দিনে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা আজকের এই পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, ফিলিস্তিনের মানুষেরও নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতিটি শিশুর স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের মানুষ এই সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াক।”

অন্যদিকে, ৫১তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ হাসান বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। আমরা জানি, তাদের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি। তারপরও নিজেদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিবাদ জানাতেই এই আয়োজন। এর মাধ্যমে সমাজের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

পরে শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গাজার মানবিক সংকট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *