রাবিপ্রবিতে আওয়ামী পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

রাবিপ্রবিতে আওয়ামী পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) আওয়ামী পুনর্বাসনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাবিপ্রবি শাখা।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সম্মুখে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন রাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন অর্নব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামস শাহরিয়ার, যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন সরকার, সদস্য সচিব জিশান আহম্মেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে “পারিবারিক ও রাজনৈতিক আখড়ায়” পরিণত করেছেন। মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নিয়োগ জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম এবং পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ছাত্রদল জানায়, শিক্ষক নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এক প্রার্থী গবেষণায় কম নম্বর পেয়েও বাদ পড়েছেন, অন্যদিকে শূন্য নম্বর পাওয়া এক প্রার্থীকে ভাইভা বোর্ডে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া বয়সসীমা অতিক্রম করে নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তির অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং একক প্রার্থীকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মতো অনিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল। ডেপুটি ডিরেক্টর ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে অনিয়ম, রিজেন্ট বোর্ডে অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তি এবং উপাচার্যের নিজে একাধিক দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে অবমাননা করেছেন। শহীদদের প্রতি দেওয়া পুষ্পস্তবক অপসারণ এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্যের অপসারণের দাবি তুলে আলটিমেটাম দিয়ে, উপাচার্য কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। তবে তারা জানিয়েছে, আন্দোলনের মধ্যেও ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল কার্যক্রম চালু থাকবে, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এতে তারা বাঁধার কারণ হবে না।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, ইতিপূর্বে নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা তথ্য -উপাত্তসহ শিক্ষার্থীদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। প্রতিটি নিয়োগই আমরা সম্পন্ন করেছি ইউজিসি নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা মেনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনক্রমে। তারপরও যদি কারো কোন তথ্য জানার থাকে, প্রশ্ন থাকে সরাসরি আমার থেকে জানার সুযোগ রয়েছে।

আওয়ামী পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপাচার্য বলেন, এ বিষয়ে আমরা জানি না, গতকালকে যে তিনজনের কমিটি হয়েছে সেখানে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ইন্টেরিম সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব করা একজনকে অভিজ্ঞতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে টিমের সদস্য হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *