
খাবার টোকেনের দামে বৈষম্যের শিকার ইবির অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা
ইবি প্রতিনিধি
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আবাসিক ও অনাবাসিকের জন্য উন্নতমানের খাবারের টোকেন বিতরণে মূল্য বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, টোকেন বিতরণে আবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য ৭০ এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী-সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট বেলা ৩টার মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেন স্ব স্ব হলে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে সংগ্রহ করতে বলা হবে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেন মূল্য ৭০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিজয় লাভ করার দিনে বৈষম্য করে ইবি প্রশাসন। আবাসিক-অনাবাসিক সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহলে তো দাম আলাদা হওয়ার কোনো মানে হয় না।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন লেখেন, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেন মূল্যে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভোস্ট কাউন্সিল কর্তৃক বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে রক্ত দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের স্মারক দিবসে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন দ্বিমুখী নীতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি। আমাদের দাবি সব শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন ও সুলভ মূল্যে খাবারের টোকেন নিশ্চিত করতে হবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি লেখেন, জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল ‘বৈষম্যহীন সমাজ ও ক্যাম্পাস গঠন’, সেখানে এই দিবস উদযাপনেই আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন আর্থিক বৈষম্য সকলকে ব্যথিত করে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান অংশীদার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আবাসিক ও অনাবাসিক বৈষম্য দূর করে, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে খাবারের মূল্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করা।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন জানান, এটা প্রভোস্ট কাউন্সিলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। যেহেতু ৫ আগস্টের আগে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না, আগস্ট পরবর্তী আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আবাসিক শিক্ষার্থীরা সারা বছর হলের বিভিন্ন খাতে নিয়মিত ফি দিয়ে থাকে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রভোস্ট কাউন্সিল টোকেনের মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখানে কাউকে বৈষম্যের শিকার করার উদ্দেশ্য নেই।
