
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) তিনি তাঁর পদে স্থলাভিষিক্ত হন।
আজ সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে নবনিযুক্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এ সময় অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রো-ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য তিনি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ক্যাম্পাসের ‘বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পুরো ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের স্মারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭৬.১১.০০৪.২২-১৫৮ মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১’ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার (০৪) বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’-এ লেকচারার হিসেবে তাঁর শিক্ষাকতা জীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ও ফিশারিজ’ অনুষদের ডিন, ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক এবং শাহজালাল হলের হাউজ টিউটর হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকেই ১৯৯৬ সালে বি.এস.সি (সম্মান) ও ১৯৯৭ সালে এম.এস.সি (স্নাতকোত্তর) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ‘মেরিন বায়োডাইভার্সিটি এন্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিষয়ে গবেষণা করে একই প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ড. শফিকুল ইসলাম সামুদ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রশমন, ইকোটক্সিকোলজি, ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি), সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ, সেন্টমার্টিনের টেকসই পর্যটন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাভূমির বাস্তুবিদ্যা সংক্রান্ত পনেরটিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের নদ-নদীর পরিবেশগত ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয়ে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সাময়িকী বা জার্নালে তাঁর চুরাশিটির (৮৪) বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
