THE Impact Rankings 2026-এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে প্রথম নোবিপ্রবি। অগ্রযাত্রা ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় উপাচার্যের

Spread the love

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। ২৪ জুন ২০২৬ প্রকাশিত এ র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪০১–৬০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় এবং দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নোবিপ্রবি।

THE Impact Rankings বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে নোবিপ্রবির এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নোবিপ্রবির এ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উদ্যোগ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান সৈকত বলেন, “নোবিপ্রবির এই অর্জন হঠাৎ করে আসেনি। বিগত প্রশাসনের দূরদর্শী চিন্তা, গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে নিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফল আমরা এখন পাচ্ছি। গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষতার যে ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল, আজ তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, “দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের। আমরা আশা করি, বর্তমান প্রশাসনও গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখবে। ভবিষ্যতে নোবিপ্রবি বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মতে, এ অর্জন শুধু একটি র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তারা মনে করেন, ধারাবাহিক পরিকল্পনা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর নেতৃত্ব বজায় থাকলে ভবিষ্যতে নোবিপ্রবি বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণায় উৎসাহ প্রদান, টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক উদ্যোগ গ্রহণে নোবিপ্রবি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবির এই অভাবনীয় সাফল্যে আমরা সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গৌরবময় অর্জনের জন্য নোবিপ্রবি পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই”।

উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, এই সাফল্য শুধু একটি র‍্যাঙ্কিংয়ের অর্জন নয়; বরং এটি আমাদের শিক্ষকবৃন্দের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রতিফলন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অংশগ্রহণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নোবিপ্রবির এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে- এই প্রত্যাশায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাবো”।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, এ সাফল্য গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নোবিপ্রবির পরিচিতি আরও বিস্তৃত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *