জনবল সংকটে ১০ মাস ধরে বন্ধ যবিপ্রবির প্যাথলজি ল্যাব, ডেঙ্গু পরীক্ষায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

Spread the love

জনবল সংকটে ১০ মাস ধরে বন্ধ যবিপ্রবির প্যাথলজি ল্যাব, ডেঙ্গু পরীক্ষায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি সংবাদদাতা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি ল্যাব প্রায় ১০ মাস ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে ল্যাবের পরীক্ষাসেবা। ফলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের জন্যও শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ১৩–১৪ কিলোমিটার দূরে যশোর শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময় ও শারীরিক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল সেন্টারে ডেঙ্গুর এনএস১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে।

মেডিকেল সেন্টারের নির্ধারিত ফি-তালিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য ডেঙ্গু এনএস১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ২১০ টাকা করে। ল্যাবটি চালু থাকলে স্বল্প খরচে এসব পরীক্ষা করানো সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে শহরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে যাতায়াত ও পরীক্ষার ফি মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, অসুস্থ হলে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। সম্প্রতি তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে তাঁকে শরীরের তীব্র ব্যথা নিয়েই যশোর শহরে যেতে হয়েছে। ক্যাম্পাসে যে পরীক্ষা ২১০ টাকায় করানো সম্ভব, শহরে গিয়ে যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচসহ তাঁর প্রায় এক হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত প্যাথলজি ল্যাবটি চালুর দাবি জানান তিনি।

ল্যাবটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকার কারণ সম্পর্কে মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্যাথলজি বিভাগে কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ল্যাবে থাকা বিভিন্ন মেডিকেল কিটও নষ্ট হয়ে গেছে।

মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল সেন্টারে প্যাথলজি ও এক্স-রে সেবা চালু রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে রিজেন্ট বোর্ডের বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এ দুটি বিভাগের জন্য দুজন টেকনোলজিস্টকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, পদ দুটি স্থায়ী না হওয়ায় টেকনোলজিস্টদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভালো সুযোগ পেলে তাঁরা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

পদ দুটি স্থায়ী করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেও এ বিষয়ে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে এক্স-রে টেকনোলজিস্ট পদের অনুমোদন প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে।

প্যাথলজি ল্যাবের জনবল সংকট নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্যাথলজি ল্যাবের টেকনোলজিস্ট নিয়োগের ব্যাপারে আমরা মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করছি, রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত চুক্তিভিত্তিক অথবা দৈনিক ভিত্তিতে নতুন টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, প্যাথলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পদটি অস্থায়ী হওয়ায় জনবল ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সেবার ওপর।

তিনি আরও বলেন, টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসে ছুটি থাকায় আগামী মাসে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন উপাচার্য।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্যাথলজি ল্যাব বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক রোগনির্ণয় ও জরুরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত টেকনোলজিস্ট নিয়োগ এবং ল্যাবের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সচল করার মাধ্যমে পরীক্ষাসেবা পুনরায় চালু হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *