সিমান্ত বিশ্বাস, স্পোর্টস ডেস্ক:
শেষ হতে চলেছে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের দীর্ঘ ছুটি। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে। জনশূন্য যবিপ্রবি আবারো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। সবকিছুর মাঝে উদ্মাদনা দ্বিগুণ করে দিচ্ছে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। চায়ের দোকান থেকে হলের বারান্দা , আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফুটবল। ছেলেদের হলগুলোতে লক্ষ্য করা গিয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, পোস্টার ইত্যাদি। মেইন গেটের সামনে প্রিয় দলের জার্সি কিনতেও শিক্ষার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়াযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে তাই যবিপ্রবি ক্যাম্পাসেও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রিফাত বলেন , বিশ্বকাপ বিশ্বের সকল ক্রীড়াপ্রেমীর জন্য অন্যতম প্রতীক্ষিত একটি আসর। একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝেও এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার ক্রীড়া উন্মাদনা সৃষ্টি করে। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব হয়না।
প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের গায়ে নিজ নিজ দলের জার্সি, হাতে পতাকা এবং প্রিয় দলের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করানো এবং সেই যুক্তির বিপক্ষে অন্য বন্ধুর যুক্তিখন্ডন ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আমি মনে করি, ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এই উৎসাহকে আরও বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একসঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দেয়ালে বিশ্বকাপভিত্তিক বিভিন্ন গ্রাফিতি করা গেলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠবে।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান বলেন , বিশ্বকাপ মানেই আমার কাছে অন্যরকম একটা অনুভূতি। ক্লাস, এক্সাম ,টিউশন , আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মধ্যেও খেলা দেখার জন্য আলাদা সময় বের করি। অবশ্যই প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ম্যাচ উপভোগ করি।
মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ আবু সুফিয়ান বলেন , “আমি একজন নিরপেক্ষ ফুটবল ভক্ত হিসেবে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। বিশ্বের সেরা দল ও খেলোয়াড়দের লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছি।
আমার প্রত্যাশা, টুর্নামেন্টটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, রোমাঞ্চকর এবং স্মরণীয়। সেরা ফুটবল খেলুক, আর ফুটবলই জিতুক।”আমি একজন গর্বিত আর্জেন্টিনা সমর্থক। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছি। দলগত ঐক্য, লড়াকু মানসিকতা এবং দারুণ ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপার জন্য লড়বে বলে আমার বিশ্বাস।
ক্যাম্পাস লাইফে প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে উচ্ছসিত বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অমিত কর্মকার বলেন,আমি একজন গর্বিত আর্জেন্টিনা সমর্থক। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছি। দলগত ঐক্য, লড়াকু মানসিকতা এবং দারুণ ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপার জন্য লড়বে বলে আমার বিশ্বাস।
বিশ্বকাপের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আলাদা আগ্রহ ছিল। তবে ক্যাম্পাস জীবনে প্রথমবারের মতো বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বিশ্বকাপের আবহ উপভোগ করতে পারাটা আমার কাছে বিশেষ এক অনুভূতি। খেলা দেখা, আলোচনা করা এবং বিশ্বকাপের উন্মাদনার অংশ হওয়া—সব মিলিয়ে এটি হবে স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা।বিশেষ করে, যদি এটি লিও মেসি ও এমি মার্টিনেজ–এর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে তারা নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে এই আসরকে আরও স্মরণীয় করে রাখবেন বলে আশা করি। আশা করছি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা দারুণ কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারব এবং আর্জেন্টিনা আবারও আমাদের গর্বিত করবে।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন , আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ব্রাজিলের প্রতি প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক বেশি থাকে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান দলটি বিশ্বকাপে ভালো কিছু উপহার দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা দেখা, প্রিয় দলকে সমর্থন করা এবং বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শামিল হওয়া এক অন্যরকম অনুভূতি। ক্যাম্পাসজুড়ে বিশ্বকাপের আলোচনা, ভবিষ্যদ্বাণী ও খেলা দেখার পরিকল্পনা এই আয়োজনকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।আশা করছি, ব্রাজিল তাদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল ও নান্দনিক খেলার মাধ্যমে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করবে। পাশাপাশি বিশ্বকাপজুড়ে দর্শকরা উপভোগ করবে রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় সব ম্যাচ।
যবিপ্রবিতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগাল ও জার্মানির সমর্থকদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নিজেদের প্রিয় দলের পক্ষে প্রচারণা। কেউ বদলে ফেলছেন প্রোফাইল ছবি, কেউ আবার জার্সি কিনতে ব্যস্ত।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই উচ্ছ্বাসকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেঙ্গল প্রেসের পক্ষ থেকে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসান স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন , ইনশাআল্লাহ আমরা ক্যাম্পাসে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করব।
