
ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা রুনা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যানার ছিঁড়ে অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। যেখানে অগ্রগামী ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রদলের কর্মী ও সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ সতেজ। এছাড়া একই বিভাগের মাস্টার্স ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফ্রীদি হাসান ব্যানার ছেঁড়ায় লিপ্ত ছিলেন । গত ১৫ এপ্রিল প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলনের সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৮ এপ্রিল সকালে ছেঁড়া ব্যানারগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন প্রো- ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। এরপরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, শিক্ষিকা রুনা হত্যার দ্রুত বিচারের জন্য ৪ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। এ সময় প্রশাসন ভবনের ভেতরে থাকা এক কর্মচারী অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসে। ফলে শিক্ষর্থীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এতে ওই কর্মচারী প্রশাসন ভবনের গেইটে ঝুলানো ব্যানারের আড়ালে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা ব্যানারগুলো সরিয়ে দেখার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ব্যানার ছিঁড়া শুরু করে। এসময় গেটে ঝুলানো বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবিযুক্ত ইউট্যাব ও জিয়া পরিষদের ব্যানার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবির অর্থনীতি বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুল মুঈদের শোক ব্যানার ছেঁড়েন শিক্ষার্থীরা।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে অর্থনীতি বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুল মুঈদের শোক ব্যানার ছিঁড়ে সমাজক্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী তানভির আহমেদ সতেজ। পরে বেগম জিয়ার শোক ব্যানার ছিঁড়তে দেখা যায় আফ্রিদি হাসানকে।
এ ঘটনায় আজ (১৯ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেগম জিয়ার ছবি অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদে সমাবেশ করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জিয়া পরিষদ, শাখা ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিভিন্ন সংগঠন।
এই বিষয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্যানার ছিঁড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। কখনোই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা আশা করিনি। এ ধরনের ঘটনায় আমরা ক্ষমা প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ভবন চত্বরে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের জন্য ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা। এক পর্যায়ে তারা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহগামী গাড়িগুলো আটকে দেয়।





