সেনাবাহিনীর উপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রকে “সেনাদের হামলা” নামে রাষ্ট্রবিরোধী বিবৃতি প্রদান ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের

Spread the love

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি | ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকে সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ এবং প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সেনাবাহিনীর বক্তব্যের বিপরীতে বিভিন্ন ছাত্র ও পাহাড়সংশ্লিষ্ট সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক সেনাসদস্য এবং জনতার দলের নেতাকর্মীরা।

সাজেকে কী ঘটেছিল

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর সকাল পৌনে ১১টার দিকে সাজেকে সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে সশস্ত্র ইউপিডিএফ সদস্যরা সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয় এবং আত্মরক্ষার্থে সেনাসদস্যরা পাল্টা গুলি চালান।

ঘটনার কারণে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আইএসপিআরের দাবি, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পর্যটকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়েছিল।

সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন

সাজেকে সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ করেছেন সাবেক সেনাসদস্যরা। তাঁদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের ভূমিকা থাকতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি সংহতি জানানো জরুরি বলেও মনে করেন তাঁরা।

সমাবেশে সাবেক সেনাসদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্যে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনতার দল।

ছাত্র ও পাহাড়সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিবৃতি

এদিকে, সেনাবাহিনীর বক্তব্য ও ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতি দিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট ও পাহাড়সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। বিবৃতিতে তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারের পাঠানো বিবৃতিতে আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়েও দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

ভারতীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে সাবেক সেনাসদস্যদের বক্তব্য

সাবেক সেনাসদস্যদের মতে, সাজেকের ঘটনাকে শুধু বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তাজনিত সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে চলবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার পেছনে বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উঠে এসেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটনের ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ছাত্র ও পাহাড়সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি গুরুত্ব পেয়েছে। সাজেকের ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বজায় রাখা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *