জবিতে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড নিয়ে ন্যাশনাল লিগ্যাল-টেক হ্যাকাথনের ছায়া বিতর্ক

Spread the love

জবিতে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড নিয়ে ন্যাশনাল লিগ্যাল-টেক হ্যাকাথনের ছায়া বিতর্ক

জবি প্রতিনিধি

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর আইনি সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ন্যাশনাল লিগ্যাল-টেক হ্যাকাথন ২০২৬’-এর ছায়া বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের নেতৃত্বে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত তিন বছর মেয়াদি ‘অ্যাক্সিলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ (ADLASB) প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

আয়োজনে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশেষ করে নারী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের মূল মোশন ছিল— “বাংলাদেশে বিশেষ করে নারী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ন্যায়বিচারে প্রবেশের বাধা কমাতে পারে।”

প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (JnUDS) দুটি দল অংশ নেয়। যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিতর্কটি জমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল বিজয়ী হয়।

বিতর্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেফতাহুল হাসান, JnUDS-এর অর্থ সম্পাদক সাদিয়া আফরোজ মীম এবং বিতার্কিক মুন্না শেখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেফতাহুল স্যান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আইনি সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অনেকেই বিভিন্ন কারণে প্রচলিত আইনি সেবার আওতায় আসতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হলে তাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি শুধু আইনি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম নয়; সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি নাগরিকদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজক ও ইউএনডিপি স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর প্রান্ত কুন্ডু বলেন, তরুণদের মধ্যে আইনি সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও ন্যায়বিচারের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিতর্কের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল লিগ্যাল এইডের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আয়োজকেরা জানান, ডিজিটাল লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি তথ্য ও সহায়তা মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রযুক্তিগত অদক্ষতা, ইন্টারনেট সুবিধার অসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই ছায়া বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ইউএনডিপি স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রান্ত কুন্ডু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (JnUDS) বিতার্কিক রাকিব শিকদার।

সমাপনী বক্তব্যে সঞ্চালক রাকিব শিকদার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিতার্কিক, বিচারক, অতিথি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন, ন্যায়বিচার ও প্রযুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছায়া বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *