বাকৃবিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রশাসনের পাল্টা যুক্তি
সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিনব্যাপী নানা আয়োজন থাকলেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বড় কোনো আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনেও বিভিন্ন অনুষদের ক্লাস টেস্ট ও ফাইনাল পরীক্ষা চলমান ছিল। এতে অনেক শিক্ষার্থী আয়োজনে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক প্রকার সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরপরও অনেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে না এলে এর দায় পুরোপুরি প্রশাসনের ওপর বর্তায় না।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সরেজমিন দেখা গেছে, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন চলেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারের বেশি। দিনটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা প্রীতিভোজের আয়োজনও ছিল না। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনটিকে ‘শিক্ষক-কর্মকর্তা দিবস’ বলেও মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের আয়োজন ছিল অনেকটা দায়সারা। কেবল কেক কাটা ও র্যালির মধ্যেই উদযাপন সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা প্রীতিভোজের আয়োজন করা যেত। এতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি আরও উৎসবমুখর হয়ে উঠত বলে মনে করেন তারা।
পরীক্ষা ও ক্লাস চালুর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক নোটিশে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। তবে এরপর স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখে। এদিনে বিভিন্ন অনুষদে ক্লাস টেস্ট ও ফাইনাল পরীক্ষাও যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ও শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। অন্তত একদিন একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে সবাইকে নিয়ে উদযাপনের সুযোগ দেওয়া যেত বলে জানান তারা।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের একটা নোটিশ দিয়েছিল আজকে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সমস্ত ক্লাস বন্ধ। তারপর থেকে রেগুলার চলবে সবকিছু। এতে অনেকেই এখানে উদযাপনে আসতে পারিনি উদযাপনে। বিশ্ববিদ্যালয় আজকের দিনটার জন্য আমাদের ক্লাস এক্সাম এগুলো অফ রাখতে পারতো।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিন্নমতের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস শিক্ষার্থীসহ সকলের জন্য সমান গুরুত্ব বহন করে। দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরপরও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হলে তার দায় পুরোপুরি প্রশাসনের ওপর বর্তায় না। যারা অংশ নেওয়ার, তারা অনুষ্ঠানে এসেছেন বলেও জানায় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং সবাইকে সার্কুলেট করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সাত হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২০০-৩০০ জনের পরীক্ষা থাকলে বাকি বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন অনুষ্ঠানে এল না?। এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে সবকিছু বন্ধ রেখে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তখনও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, যারা সমালোচনা করছে, তারা নিজেরা আয়োজনে কোনো সহযোগিতা করে না। বরং আয়োজকদের ওপর একটি অন্যায্য চাপ তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের যদি পরীক্ষার কারণে সমস্যা থাকত, তাহলে নোটিশ পাওয়ার পরই তারা প্রশাসনকে জানাতে পারত।
সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস বন্ধের সুযোগ হলে ঘুমাতে বেশি আগ্রহী, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নয়। শিক্ষার্থীরা যদি গঠনমূলক পরামর্শ দেয় বা জানায় কী ধরনের আয়োজন করলে তাদের উপস্থিতি বাড়বে। তাহলে প্রশাসন সে অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও পরামর্শ গ্রহণে প্রশাসন সবসময় ইতিবাচক।

